ঐতিহ্যবাহী স্থানে কর্মীদের বেতন শুনে হতবাক আদালত, কেন্দ্রকে নোটিশ

Published on:

Published on:

Calcutta High Court shocked to hear salaries of workers at heritage sites
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক :  রাজ্যের নানা প্রাচীন ধর্মীয় জায়গায় কর্মরত কর্মীদের বেতন ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, জল গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত। বিভিন্ন মসজিদ ও কবরস্থানে কর্মরত কর্মীদের মাসিক ভাতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এরপরেই এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।

বেতন‌ প্রসঙ্গে হাইকোর্ট (Calcutta High Court)

অভিযোগ উঠেছে, মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক খোশবাগ সমাধিক্ষেত্র-সহ একাধিক স্থানে মোট ২৬টি পদের কর্মীরা এখনও অতি সামান্য অঙ্কের বেতন পান—২২ টাকা, ৭ টাকা, ৫ টাকা কিংবা ৯ টাকা। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই তথ্য আদালতে পেশ হতেই বিস্মিত হন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।

রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলেও এতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা তাদের নেই। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, ব্রিটিশ আমলের নিয়ম অনুসারেই এই অর্থ ‘পলিটিকাল পেনশন’ হিসেবে প্রদান করা হয়, যার পরিবর্তন সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করতে নোটিশ জারি করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।

আগামী ৪ মে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে‌। মামলাকারীদের আইনজীবী সারওয়ার জাহান ও সায়ন্তন হাজরা আদালতে জানান, ১৯৯৭ সালে এই কর্মীদের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছিল। ২০০০ সাল থেকে তাঁদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবি জানানো শুরু হয়। এরপর ২০১২ সাল পর্যন্ত বারবার কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে এই বিষয়ে আবেদন করা হলেও কোনও সুরাহা হয়নি।

পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৩ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, ১৯৫২ সালের এপ্রিল মাসে জারি হওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্রিটিশ আমলের এই পলিটিকাল পেনশন বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। তবুও কর্মীরা হাল ছাড়েননি এবং অবশেষে গত বছর আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুপারিনটেনডেন্টের পারিশ্রমিক মাত্র ১৫ টাকা, মালির ৯ টাকা এবং চাপরাশি ও অন্যান্য কর্মীরাও ৯ টাকা করে পান। এই অঙ্ক শুনে বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং দ্রুত কেন্দ্রের জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Calcutta High Court shocked to hear salaries of workers at heritage sites

আরও পড়ুন : পড়ুয়াদের জন্য বড় খবর, ১ মে থেকেই ছুটি! গরমের ছুটি কবে শুরু ও কতদিন

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুর্শিদাবাদ জেলা নবাবি আমলের বহু স্মৃতিচিহ্ন বহন করে। ভাগীরথীর তীরে অবস্থিত এই অঞ্চলে আলিবর্দি খাঁ ও সিরাজউদ্দৌল্লার তৈরি নানা স্থাপত্যে রয়েছে। খোশবাগ, যা একসময় আলিবর্দি খাঁ-এর তৈরি উদ্যান ছিল, সেখানে আজও সিরাজউদ্দৌলার ও তাঁর সমাধি রয়েছে। এইসব ঐতিহ্যবাহী স্থানের দেখভাল করেন যাঁরা, তাঁরাই এত কম বেতনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থার ফাঁকফোকর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আদালতের হস্তক্ষেপে কর্মীদের ন্যায্য দাবি পূরণ হবে কি না, এখন সেটাই দেখার।