বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোট শান্তিপূর্ণ করতে এবার অনেক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ভোটের তিন দিন আগে থেকে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিষয়টি পৌঁছয় আদালতে। শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে এবং জানিয়ে দেয়, যুক্তি ছাড়া এভাবে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়া যায় না।
বাইক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হাই কোর্টের (Calcutta High Court) প্রশ্ন
ভোটের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশন বেশ কিছু কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)।
শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “অযৌক্তিকভাবে সব কিছু থামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।” কেন তিন দিন আগে থেকেই বাইক বন্ধ করা হল, তার স্পষ্ট কারণ জানতে চেয়ে কমিশনকে আগামীকাল হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত (Calcutta High Court)।
বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, যদি এতটাই আশঙ্কা থাকে, তাহলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হচ্ছে না কেন? তাঁর মতে, এইভাবে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়া মানে নাগরিক অধিকার খর্ব করা। শুধু বাইক নয়, তাহলে গাড়িও বন্ধ করে দেওয়া উচিত, এমন কটাক্ষও করেন তিনি। এছাড়াও আদালত (Calcutta High Court) জানতে চায়, গত পাঁচ বছরে কতগুলি ক্ষেত্রে বাইক ব্যবহার করে গোলমালের ঘটনা ঘটেছে এবং সেই নিয়ে কত FIR দায়ের হয়েছে। এই তথ্যও আদালতে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতির স্পষ্ট জানান ২৪ ঘণ্টার জন্য কিছু নিয়ম মানা যেতে পারে, কিন্তু ৭২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে এমন নিষেধাজ্ঞা অযৌক্তিক।

আরও পড়ুনঃ বুথে বিজেপি এজেন্টকে উধাও করে তার জায়গায় বসলেন তৃণমূল কর্মী, ধরা পড়তেই যা হল…
শেষে আদালত (Calcutta High Court) স্পষ্ট করে জানায়, পুলিশ, সিসিটিভি সহ একাধিক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এভাবে সাধারণ মানুষের উপর চাপ তৈরি করার কোনও যুক্তি নেই। তাই পুরো বিষয়টি নিয়ে কমিশনকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে নির্দেশ দেয় আদালত।












