বাংলা হান্ট ডেস্কঃ উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আবারও কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে নির্দেশ মানা না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের জেল পর্যন্ত হতে পারে।
কী রায় হাই কোর্টের (Calcutta High Court)?
উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আদালতের আগের রায় এখনও কার্যকর করেনি স্কুলশিক্ষা দপ্তর। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান সচিব, স্কুলশিক্ষা কমিশনার, এসএসসি চেয়ারম্যান এবং সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারির হুঁশিয়ারি দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ সোমবার শুনানিতে স্পষ্ট জানায়, গত বছরের ৮ অগস্ট এসএসসি আদালতে জানিয়েছিল, উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শূন্যপদ রয়েছে ৫,৪০১টি। প্রার্থীর সংখ্যা ১,২৪১ জন। ভ্যাকেন্সি ও প্রার্থীদের মিস ম্যাচের বিষয়টি স্কুলশিক্ষা দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।
এরপর গত বছরের ২১ এপ্রিল মামলার শুনানিতে স্কুলশিক্ষার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও কমিশনারকে যুক্ত করে আদালত। ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি অ্যাডজাস্ট করার নির্দেশও দেওয়া হয়। ৪ সেপ্টেম্বর এসএসসি আবারও একই তথ্য আদালতে (Calcutta High Court) জমা দেয়। ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এখনও পর্যন্ত চারবার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ২৭ নভেম্বর রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেলকে হাজির থাকতে বলা হয়। ৩০ জানুয়ারি তাঁর উপস্থিতিতে আদালতকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রায় কার্যকর হবে।
কিন্তু বর্তমান শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করার কথা ভাবা হচ্ছে। এই বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতিরা বলেন, এই ধরনের কাজ গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, এসএসসি-র বর্তমান নিয়মবিধিতে শূন্যপদ অ্যাডজাস্ট করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এমনকি তা করলে ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও কোনও প্রভাব পড়বে না। তবু অযথা দেরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য বেঞ্চের। যদিও শিক্ষা দপ্তরের কর্তারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, আগে ডিভিশন বেঞ্চের রায় রিকলের আবেদন করার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু আদালত (Calcutta High Court) অবমাননার রুল জারির হুঁশিয়ারির পর সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ SIR মামলায় ‘অজুহাত নয়’, রাজ্যকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
এদিকে, এসএসসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাকারী পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চের সভাপতি সুশান্ত ঘোষ দাবি করেন, কাউন্সেলিং পর্বে ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ প্রার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ১২ থেকে ১৫ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়েও স্কুলে যোগ দেননি। তাঁর মতে, এখনও ১,২৪১ জনের কাউন্সেলিং হলে অনেকেই অনুপস্থিত থাকতে পারেন। তাই দ্রুত আদালতের (Calcutta High Court) নির্দেশ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে আইনি জট আরও জোরালো হয়েছে। এখন নজর ৩০ মার্চের দিকে। সেই সময়ের মধ্যেই নির্দেশ কার্যকর হয় কি না, সেটাই দেখার।












