বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুর্গাপুজোর অবকাশে পরিবারকে সময় দেওয়া কিংবা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বহু কর্মী ও আধিকারিক। কিন্তু ছুটির মধ্যেও জরুরি মামলার শুনানির জন্য যে কোনও দিন আদালতে কাজ শুরু হতে পারে, এমন ব্যবস্থা ঘিরে তাঁদের পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ বার পুজোর ছুটিতে নির্ধারিত দশ দিন ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসানোর পাশাপাশি বাকি দিনগুলিতেও জরুরি পরিস্থিতিতে শুনানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আদালতের অন্দরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
পুজোয় ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসবে হাইকোর্টে (Calcutta High Court)
কলকাতা হাইকোর্টে পুজোর অবকাশে শুনানি কতটা নিয়মিত হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত সূচিতে সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবরের ২২, ২৩, ২৭, ২৮ ও ৩০ তারিখ এবং নভেম্বরের ২, ৪, ৬, ৯ ও ১০ তারিখে একটি করে ডিভিশন বেঞ্চ এবং একটি করে সিঙ্গল বেঞ্চ বসবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মোট দশ দিন বিশেষ বেঞ্চে মামলার শুনানি চলবে।
তবে এই দশ দিনই একমাত্র কর্মদিবস নয়। ১৬ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত গোটা অবকাশপর্বে জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে বেঞ্চ বসানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ছুটির দিন বা সপ্তাহান্তেও সেই সম্ভাবনা থাকছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ১৬ অক্টোবর ও ১৯ অক্টোবর, যথাক্রমে ষষ্ঠী ও অষ্টমীর দিনেও সাধারণভাবে ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসানোর কথা ছিল। আইনজীবীদের আপত্তির পর ওই দুদিনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। এখন বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলেই শুধু বেঞ্চ বসতে পারে।
এ বারের সূচি আরও একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর পুজোর ছুটিতে নিয়মিত ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসেছিল মাত্র চার দিন। এ বার সেই সংখ্যা বেড়ে দশ হয়েছে। ফলে জরুরি বিচারপ্রক্রিয়া চালু রাখার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি বিচারপতি ও আদালতের কর্মীদের কাজের চাপ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সূচি অনুযায়ী, একজন বিচারপতিকে গড়ে দুই থেকে তিনটি ভ্যাকেশন বেঞ্চে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। কিন্তু সমস্যা শুধু নির্ধারিত শুনানির দিনগুলিতে উপস্থিত থাকার নয়।
অবকাশের অন্য কোনও দিন জরুরি শুনানির প্রয়োজন হলে বেঞ্চ বসতে পারে—এই সম্ভাবনা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের একাধিক দিন প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও আধিকারিকদেরও সেই অনুযায়ী কাজের জন্য তৈরি থাকতে হতে পারে। ফলে ছুটির সময়টুকু পুরোপুরি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে কর্মী-আধিকারিকদের জয়েন্ট ফোরাম। তাঁদের বক্তব্য, পুজোর সময়ে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি বাইরে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কেউ কেউ আগাম টিকিট কাটা ও থাকার ব্যবস্থাও করে ফেলেছেন। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে যে কোনও দিন কাজে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে।

আরও পড়ুন : সরকারি হাসপাতালে এবার আরও সস্তায় ওষুধ! কলকাতা-সহ ১৬টি হাসপাতালে বড় উদ্যোগ
অবশ্য জরুরি মামলার শুনানি বন্ধ রাখার দাবি নয়, বরং কাজের প্রয়োজন ও কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার প্রশ্নই সামনে আনছেন তাঁরা। উৎসবের সময় আদালতের কাজ চালু রাখার প্রয়োজন থাকলেও, ছুটির পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কর্মীদের একাংশের। এখন বুধবার বিচারপতিদের ফুল বেঞ্চের বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে আইনজীবী এবং আদালতের কর্মী-আধিকারিকদের। ভ্যাকেশন বেঞ্চের সূচি নিয়ে সেখানে কোনও আলোচনা হয় কি না, সেটাই দেখার।














