বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়টি বারংবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, অপরিশোধিত তেল বাণিজ্যে আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমাতে কানাডা (Canada) এখন একটি বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি প্যাসিফিক লিঙ্ক পাইপলাইনকে (Pacific Line Pipeline) জাতীয় স্বার্থের প্রকল্প হিসাবে ঘোষণা করেছেন। যা এর অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার পথ প্রশস্ত করেছে। প্রায় ১,২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি আলবার্টার অপরিশোধিত তেলক্ষেত্রগুলিকে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার উপকূলের সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং এর ধারণক্ষমতা হবে দৈনিক প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। এর মাধ্যমে কানাডা আমেরিকার (America) পরিবর্তে এশিয়াসহ অন্যান্য গ্রাহকদের কাছে তার তেল সরবরাহ করতে চায়।
Mega Pipeline Plan তৈরি কানাডার:
আমেরিকার জন্য বড় ঝটকা: এদিকে, এহেন পদক্ষেপ আমেরিকায় জন্য একটি বড় ঝটকা হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ কানাডা দীর্ঘদিন ধরে তাদের অপরিশোধিত তেলের বৃহত্তম সরবরাহকারী। কানাডার ৯০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল আমেরিকায় যায়। তবে, কানাডা এখন তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করতে চায়। এর ফলে মার্কিন শোধনাগারগুলি অন্যান্য উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল কিনতে বাধ্য হবে। যা কানাডা থেকে পাওয়া অপরিশোধিত তেলের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হবে। এছাড়াও, কানাডার নিজস্ব তেল আরও বেশি পরিমাণে বিক্রি হলে আমেরিকার অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে দেশটি দর কষাকষির ক্ষমতাও বাড়িয়ে দিতে পারবে।

ভারত কীভাবে লাভবান হবে: জানিয়ে রাখি যে, বর্তমানে, কানাডা তার সমস্ত অপরিশোধিত তেল সরাসরি আমেরিকায় বিক্রি করে। তবে, যখন এটি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছবে তখন এটি ভারতের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কানাডা এখনও রাশিয়ার মতো ভারতের প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী নয়, কিন্তু দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য আলোচনা ইতিমধ্যেই চলছে।
আরও পড়ুন: ৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে সোনা জিতল ভারতের মহিলা হকি দল! ২০২৮-এর অলিম্পিকে হল এন্ট্রি
২০২৬ সালের জুন মাসে, ভারতীয় হাইকমিশনার জানান যে, ভারত কানাডার অপরিশোধিত তেলকে একটি সম্ভাব্য সরবরাহকারী হিসাবে বিবেচনা করছে। কারণ ভারতের নতুন শোধনাগারগুলি হেভি অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম। সুতরাং, প্যাসিফিক লিঙ্ক শুধু কানাডা ও আমেরিকার বিষয় নয়। যদি এই পাইপলাইনটি বাস্তবায়িত হয় এবং এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি হয়, সেক্ষেত্রে এটি ভারতের জন্যও অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের একটি নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: এই কোম্পানির স্টকে বিরাট পতন! মাত্র ৬ দিনেই উধাও ৫ বছরের আয়, মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের
অপরিশোধিত তেলের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে: উল্লেখ্য যে, কানাডার সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করে ভারতের লাভবান হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কানাডার তেলের প্রবেশ অপরিশোধিত তেলের সামগ্রিক চাহিদাও বাড়াবে। যার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে ভারতও লাভবান হবে। কারণ ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে। এমতাবস্থায়, অপরিশোধিত তেলের দাম কমার ফলে ভারত সরাসরি লাভবান হবে।













