বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সামাজিক প্রকল্পগুলির মধ্যে রাজ্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি প্রকল্প হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)। এই প্রকল্পের আওতায় তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলারা মাসে ১২০০ এবং সাধারণ সম্প্রদায় অর্থাৎ জেনারেল ক্যাটাগরির মহিলারা ১০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পেয়ে থাকেন। রাজ্য সরকার নিজস্ব কোষাগার থেকেই এই অনুদান দিয়ে থাকে। ভোটমুখী রাজ্যে এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েই এবার উঠল মারাত্মক অভিযোগ। যা নিয়ে মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)।
ঠিক কী নিয়ে মামলা হাইকোর্টে? Calcutta High Court
অভিযোগ, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার অন্তর্গত ময়না ব্লকের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে মিলছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। অভিযোগ গ্রামপঞ্চায়েত বিজেপির দখলে হওয়ায় রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না প্রাপকরা। কেন বন্ধ? এবার রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।
অভিযোগ, ওই গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে হওয়ায় সেখানকার প্রায় সাত হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না৷ তাঁরা বিজেপির সমর্থক হওয়ার কারণেই এই বিভাজন বলে উল্লেখ। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না। এলাকার প্রায় সাত হাজার মহিলা এই ভাতা পাচ্ছেন না বলে জানানো হয়। বলা হয়, তাঁরা একাধিকবার জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। জেলাশাসক একাধিক বার আশ্বাস দেওয়ার পরও লাভের লাভ হয়নি বলে অভিযোগ।
আবার সম্প্রতি রাজ্যের শাসক দলের এক নেতা সিঙ্গুরের প্রকাশ্য জনসভা থেকে ‘বাকচার মতো আচরণ করা হবে’ বলে হুমকির কথারও উল্লেখ করা হয়। রাজ্যের তরফে রাজ্যের আইনজীবী জানান, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর এই টাকা দিয়ে থাকে। সেখানে এই বিষয়ে কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। অনুসন্ধান চলছে৷ রাজ্যের আইনজীবী আরও জানান, এই বিষয়ে রিপোর্ট পেশ করে জানানো হবে। এর জন্য তিনি আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নেন।

আরও পড়ুন: ৪ দিনের মাথায় আনন্দপুর ‘জতুগৃহ’ কাণ্ডে ১৬৩ ধারা, ঘটনাস্থলে যেতে চেয়ে হাই কোর্টে শুভেন্দু
সব শুনে বাকচা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুনীতা মণ্ডল সাহুর করা এই মামলাতে কড়াকড়ি হাইকোর্টের। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে রিপোর্ট দিতে হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলার কারণে যেন এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া বন্ধ না রাখা হয় সেদিকেও নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।












