বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আনন্দপুরের ‘জতুগৃহ’ আগুনকাণ্ডকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দল বিজেপি। সেই আবহেই ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অন্যদিকে, ঘটনার চার দিনের মাথায় আগুন লাগার আসল কারণও সামনে এসেছে।
আনন্দপুর যেতে চেয়ে হাইকোর্টে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)
রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। গড়িয়া শীতলামন্দির থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত মিছিল করে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে বিজেপির তরফে। সূত্রের খবর, এই মামলার অনুমোদন দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তবে পুলিশের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
কেন মিছিলে অনুমতি দিল না পুলিশ?
নরেন্দ্রপুর থানার তরফে একটি ইমেল পাঠিয়ে মিছিলের অনুমতি খারিজ করা হয়েছে। সেই ইমেলে জানানো হয়েছে, যে রুটে মিছিল করার আবেদন করা হয়েছে, সেখানে একাধিক হাসপাতাল ও স্কুল রয়েছে। ওই রাস্তায় নিয়মিত যান চলাচল হয় এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত গাড়ি যাতায়াত করে।
পুলিশের দাবি, এই পরিস্থিতিতে মিছিল হলে যানজট সৃষ্টি হতে পারে এবং জরুরি পরিষেবার কাজে বাধা আসার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গুদামের কাছে ১৬৩ ধারা জারি
ঘটনাস্থলের গুদামের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। এই ধারার ফলে সেখানে মিছিল ও জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের নোটিসে জানানো হয়েছে, তদন্তের সময় তথ্যপ্রমাণ লোপাট, উদ্ধারকাজে বাধা কিংবা তদন্তে কোনও সমস্যা যাতে না হয়, সেই কারণেই এই ধারা জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগুন লাগার ঘটনার চতুর্থ দিনের মাথায় এই ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে বিজেপির তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) ঘটনাস্থলে আসবেন বলেই কি এই ধারা জারি করা হয়েছে?

আরও পড়ুনঃ নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে বড় মোড়! আদালতের নির্দেশে এবার নতুন তালিকা সামনে আনল SSC, কাদের নাম?
চার দিনের মাথায় সামনে এল আগুনের আসল কারণ
এদিকে, ঘটনার চার দিন পর স্পষ্ট হয়েছে আনন্দপুরে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ। দমকল ও ফরেন্সিক বিভাগের প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে আগুন লাগে মোমো গুদামে নয়, একটি ডেকরেটর্সের গুদামে। জানা যাচ্ছে, ডেকরেটর্সের গুদামের পশ্চিম দিকে থাকা একটি তিনতলা বিল্ডিংয়ের অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা ডেকরেটর্সের গুদাম এবং সংলগ্ন মোমো গুদামে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।












