বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় বড় একটি পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন। আদালতের নির্দেশ মেনে কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে ‘দাগি’ বা টেইন্টেড প্রার্থীদের একটি নতুন তালিকা (SSC Tainted List) প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় শুধু নাম নয়, কার চাকরি কেন বাতিল হতে পারে, তার কারণও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রকাশ্যে এল দাগি প্রার্থীদের তালিকা (SSC Tainted List)
বুধবার প্রকাশিত এই তালিকায় (SSC Tainted List) শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী মিলিয়ে মোট ৫,৩১৮ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে ১,৮০৬ জন শিক্ষক এবং ৩,৫১২ জন গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি শিক্ষাকর্মী আছেন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
পদের নাম দাগি প্রার্থীর সংখ্যা
- শিক্ষক – ১,৮০৬ জন
- শিক্ষাকর্মী – ৩,৫১২ জন
এই তালিকার (SSC Tainted List) সঙ্গে প্রত্যেক প্রার্থীর নামের পাশে কেন তাঁকে দাগি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার কারণ লেখা রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা থাকবে এবং বিভ্রান্তি কমবে।
চাকরি পেলেও বাতিল হতে পারে
স্কুল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে, যদি কোনও দাগি প্রার্থী ভুল করে চাকরি পেয়ে যান বা নিয়োগপত্র হাতে পান, তবুও তাঁর চাকরি স্থায়ী হবে না। ভবিষ্যতে যদি প্রমাণ হয় যে তিনি দাগি, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চাকরি বাতিল করা হবে।
কাউন্সেলিংয়ের আগে কেন তালিকা প্রকাশ?
খুব শীঘ্রই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই এই তালিকা (SSC Tainted List) প্রকাশ করা হল। বিরোধীদের তরফে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছিল। এই বিষয় নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়। আদালতের নির্দেশ মানতেই কাউন্সেলিংয়ের আগে এই তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ফের ডিজিপি পদে বসছেন রাজীব কুমার? নিয়োগের পথে বাধা কেন
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে (SSC Tainted List) অনেক চাকরিপ্রার্থী প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, যদি দাগি প্রার্থীদের চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল, তাহলে শুরুতেই তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হল না কেন। অনেকের আশঙ্কা, চাকরি দেওয়ার পর তা বাতিল হলে ফের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে ভোগান্তি বাড়বে যোগ্য প্রার্থীদেরই। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।












