ED-এর পর এবার CBI, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় কলকাতায় একযোগে পাঁচ জায়গায় কম্বিং সার্চ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার

Published on:

Published on:

CBI Search Operation in Bank Fraud Case in Kolkata
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ইডির পর এবার কলকাতায় তৎপরতা বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও বহু কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্র ধরে শহরের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সিবিআই। এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

কলকাতার মোট পাঁচটি জায়গায় একযোগে ‘কম্বিং সার্চ’ সিবিআই (CBI) এর

সিবিআই (CBI) সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতার মোট পাঁচটি জায়গায় একযোগে ‘কম্বিং সার্চ’ চালানো হচ্ছে। অভিযানে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। এই পাঁচটি ঠিকানার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে আলিপুর নিউ রোডের প্লট নম্বর ২৮-এ অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বহুতল আবাসন। ‘গণেশ কোর্ট’ নামে পরিচিত ওই আবাসনের পাঁচতলায় এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সিবিআই আধিকারিকরা প্রবেশ করেছেন। তল্লাশি চলাকালীন বাইরে ছয় জন আধাসেনা জওয়ান মোতায়েন রয়েছে এবং ভিতরেও রাখা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা।

কী থেকে মামলার সূত্রপাত?

এই মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া একটি লিখিত অভিযোগ থেকে। অভিযোগটি করেছিলেন ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের (তৎকালীন এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক) ঝাড়খণ্ডের রাঁচি শাখার স্ট্রেসড অ্যাসেটস ম্যানেজমেন্ট ভার্টিক্যালের চিফ ম্যানেজার ও ব্রাঞ্চ হেড সুরেশ চন্দ্র চৌহান। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০১৬ সালে রাজেশ্বরী আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর সুমিত কেজরিওয়াল ও আশা কেজরিওয়াল, সংস্থার গ্যারান্টার প্রভাস কুমার মুখোপাধ্যায় এবং আরও কয়েক জন অজ্ঞাত সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাঙ্কের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। জাল নথির ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে এবং সেই নথিগুলিকে বৈধ হিসেবে ব্যবহার করে জামশেদপুরের মেইন ব্রাঞ্চ থেকে প্রায় ৫৬১.৭১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

কী কী ধারায় মামলা? কারা অভিযুক্ত?

তদন্তে হিসাব জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং কোম্পানি আইনের নিয়ম না মানার মতো একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি ধারার পাশাপাশি ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইন, ১৯৮৮-র ১৩(২) এবং ১৩(১)(ডি) ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, তার দুই ডিরেক্টর, একজন ভুয়ো পরিচয়ধারী এবং আরও কয়েক জন অজ্ঞাত সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তি।

CBI submits final chargesheet in SSC Recruitment Scam case

আরও পড়ুনঃ RAC একেবারে বাতিল! হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার বাংলায় কোথায় কোথায় থামবে? জানুন

কেন কলকাতায় তল্লাশি

ডিএসপিই আইন অনুযায়ী কেন্দ্র ও ঝাড়খণ্ড সরকারের অনুমোদন নিয়েই এই তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই (CBI)। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে রাঁচিতে সিবিআইয়ের এসিবি শাখার ডিএসপি আর এস সোলাঙ্কিকে। এই মামলার সূত্র ধরেই কলকাতায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে। তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য মিলতে পারে বলেই মনে করছে সিবিআই। শহরে পরপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও নজরদারি বেড়েছে।