বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাশিয়ার (Russia) কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারত (India) সহ বিভিন্ন দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ (US Tariff) নিয়ে মার্কিন সেনেটে একটি নতুন বিল পাস হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রুশ তেল ক্রেতা ভারতও এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাবের আওতায় পড়তে পারে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে কোনও রকম পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়নি। বরং জুলাই মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। এর ফলে স্পষ্ট হয়েছে, আপাতত অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। যদিও মার্কিন বিলটি এখনও আইনে পরিণত হয়নি, তাই এই মুহূর্তে ভারতের উপর কোনও অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ট্রাম্পের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ‘বন্ধু’ রাশিয়া থেকে বিপুল তেল আমদানি ভারতের (India):
পণ্য-বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ভারত (India) প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২.৭৮ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। জুনের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় ১.৫ শতাংশ বেশি। পরিসংখ্যান আরও বলছে, ওই মাসে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে রাশিয়া থেকে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরব যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী থাকলেও, দুই দেশের সম্মিলিত সরবরাহও রাশিয়ার ধারেকাছে পৌঁছয়নি। অর্থাৎ ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে এখনও সবচেয়ে বড় অংশীদার মস্কোই। এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মধ্যেও দুই দেশের জ্বালানি সম্পর্ক যে আগের মতোই দৃঢ় রয়েছে, সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: সপ্তাহের শুরুতেই ঝুপ করে পড়ল সোনা-রুপোর দাম! কিছু কেনার থাকলে এই সুযোগ মিস করবেন না
ভারতের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে স্পষ্ট অর্থনৈতিক কারণ। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার উপর পশ্চিমি দেশগুলির একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের চিত্র বদলে যায়। সেই সময় থেকেই তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল কেনার সুযোগ পায় ভারত। এর ফলে দেশের তেল শোধনাগারগুলির কাঁচামালের খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের কোনও বিঘ্ন ঘটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ক্রুডের দাম কিছুটা কমলেও, মূল্যছাড় এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে ভারতীয় রিফাইনারিগুলির কাছে রুশ তেল এখনও লাভজনক বিকল্প হিসেবেই রয়েছে। গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক সম্পর্কও এই সিদ্ধান্তকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে মার্কিন সেনেটে পাস হওয়া বিলকে ঘিরে ভবিষ্যতের সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিলে বলা হয়েছে, কোনও দেশ যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তাহলে তার উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সুযোগ থাকবে। যদিও এই প্রস্তাব এখনও আইন হয়ে ওঠেনি এবং কার্যকর হওয়ার আগে আরও কয়েকটি সাংবিধানিক ধাপ বাকি রয়েছে। তাই আপাতত ভারতের বিরুদ্ধে কোনও শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই কারণেই নয়াদিল্লি বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল আমদানির নীতিতে কোনও পরিবর্তন আনেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনগত অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ভারত তার জ্বালানি কৌশলে বড়সড় বদল আনবে না।

আরও পড়ুন: ‘মোট বকেয়ার আধা ৫০% খুব সত্ত্বর দিয়ে..,’ কবে গ্র্যান্ট ইন এইড ও কেএমসি এলাকায় বসবাসকারীদের DA?
‘কেপলার’-এর গবেষক নিখিল দুবের মতে, ভারতের (India) তেল আমদানির ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি বহুমুখী এবং স্থিতিশীল। রাশিয়ার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকেও নিয়মিত তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে তার বড় প্রভাব পড়ছে না। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারতের কাছে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে কাঁচামাল সংগ্রহই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ এবং সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপের দিকে নজর রাখলেও, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নয়াদিল্লি আপাতত রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার পথেই এগোচ্ছে।
















