বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দেশজুড়ে ওষুধ বিক্রির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র সরকার (Central Government)। এবার থেকে কাশির সিরাপ-সহ বিভিন্ন ধরনের সিরাপজাত ওষুধ কিনতে গেলে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রাজ্যে বিষাক্ত কাশির সিরাপ খেয়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিরাপ বিক্রির নতুন নিয়ম আনল কেন্দ্র (Central Government)
কেন্দ্র (Central Government) ১৯৪৫ সালের ড্রাগস রুলস-এ সংশোধন এনে সিরাপ বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন বিধি চালু করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ফার্মেসি থেকে কাশির সিরাপ বা অন্য কোনও সিরাপজাত ওষুধ কিনতে গেলে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন লাগবে। ফলে আগে যেসব সিরাপ সহজেই ওষুধের দোকান থেকে পাওয়া যেত, সেগুলি আর প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যাবে না।
মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে বিষাক্ত কাশির সিরাপ সেবনের কারণে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরপর সিরাপ উৎপাদন ও বিক্রির উপর আরও কড়া নজরদারির দাবি ওঠে। সেই পরিস্থিতিতেই এই পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র (Central Government)। নতুন সংশোধনীতে ড্রাগস রুলসের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই ধরনের ওষুধগুলি আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় চলে এসেছে। কার্যত প্রেসক্রিপশন ছাড়া সিরাপ বিক্রির পথ বন্ধ হয়ে গেল।
সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়বে?
নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর কাশির সিরাপ-সহ বিভিন্ন সিরাপজাত ওষুধ কিনতে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে। আগে অনেকেই সরাসরি ফার্মেসি থেকে এই ধরনের ওষুধ কিনে নিতেন। এখন সেই ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক হবে।
খসড়া প্রকাশের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সংশোধনের খসড়া নিয়ম প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এরপর সাধারণ মানুষের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়। সেই সব মতামত খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৯ জুন এই সংশোধনী সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব হর্ষ মঙ্গলা নির্দেশিকাটি জারি করেন।

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের সব ফার্মেসিকেই সিরাপ ও সংশ্লিষ্ট ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সংশোধিত বিধি মেনে চলতে হবে। এর ফলে সিরাপজাত ওষুধের ব্যবহার ও বিক্রির উপর নজরদারি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে (Central Government)।













