বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার কেনাকাটার ওপর নজর রাখতে চলেছে (Retail Consumption Survey) সরকার। হ্যাঁ, প্রথমে বিষয়টি পড়ে অবাক হলেও এবার এটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। মূলত এবার কী কী দামি পণ্য কেনা হচ্ছে এবং বিভিন্ন রাজ্যের ক্রেতাদের ক্রয়ের অভ্যাস সম্পর্কে জানার জন্য সরকার বড় পরিকল্পনা করছে। সামগ্রিকভাবে, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রথম রিটেল কনজাম্পশান সার্ভে শুরু করার কথা বিবেচনা করছে। এই সার্ভের উদ্দেশ্য হল সারা দেশে (India) গ্রাহকদের (Customers) ক্রয়-প্যাটার্ন বোঝা এবং খুচরো বাজার সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা।
দেশজুড়ে প্রথম রিটেল কনজাম্পশান সার্ভে (Retail Consumption Survey) শুরুর পরিকল্পনা কেন্দ্রের:
রিপোর্ট অনুযায়ী, Ministry of Statistics and Programme Implementation (MoSPI) এই সার্ভেটি পরিচালনা করবে। তবে, এটি কবে শুরু হবে সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং, মন্ত্রক জানিয়েছে যে, বর্তমানে এর পরিধি ও সময়সীমা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এদিকে, প্রস্তাবিত সমীক্ষাটি ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাসিফিকেশন তথা নিকর অধীনে তালিকাভুক্ত প্রায় সব ধরণের খুচরো ব্যবসাকে অন্তর্ভুক্ত করবে। সোজা কথায়, মুদি দোকান থেকে শুরু করে বাসনপত্র, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স শোরুম, কাপড়ের দোকান এবং সুপার মার্কেট সহ অন্যান্য খুচরো ব্যবসা-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এদিকে, এই সমীক্ষায় টিভি থেকে শুরু করে রেফ্রিজারেটর ও ওয়াশিং মেশিনের মতো টেকসই ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি খাদ্যশস্য, ওষুধ ও পোশাকের মতো অ-টেকসই পণ্যের বিক্রয়ের হিসাবও রাখা হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে কোন ধরণের পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তা জানা।

বিস্তারিত তথ্য: এই নতুন সমীক্ষাটি বিদ্যমান HOUS OLD কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার সার্ভে তথা HCES থেকে ভিন্ন হবে। HCES একটি নির্দিষ্ট সময়কালে কোনও পরিবার কর্তৃক ব্যবহৃত পণ্যের পরিমাণ পরিমাপ করে। অপরদিকে, এই রিটেল কঞ্জাম্পশন সার্ভে দোকান থেকে মূলত কী কী পরিমান পণ্য কেনা হয়েছে তার হিসাব রাখবে। উদাহরণস্বরূপ, একটি পরিবার ১ কেজি চাল কিনল। কিন্তু এক মাসে মাত্র ৫০০ গ্রাম ব্যবহার করল। HCES এক্ষেত্রে ৫০০ গ্রাম ব্যবহার রেকর্ড করবে, কিন্তু নতুন সার্ভেতে দোকানদারের বিক্রি করা পুরো এক ১ কেজি চালই রেকর্ড করা হবে। এর ফলে বাজারে প্রকৃত চাহিদা ও বিক্রয়ের আরও সঠিক অনুমান করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ৩৪ শতাংশ বাড়ল রফতানি! রাশিয়া থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ইউরোর অপরিশোধিত তেল কিনল ভারত
নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই সমীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হবে। কারণ এটির মাধ্যমে গ্রাহক চাহিদা থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতি, উৎপাদন এবং সাপ্লাই চেন সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারকে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করবে। এছাড়াও, কোন পণ্যগুলোর চাহিদা বাড়ছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন ব্যবসার সুযোগ রয়েছে, তা শিল্প সেক্টর ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে বোঝা সহজ হবে। MoSPI-এর লক্ষ্য হল সার্ভের তথ্যের সঙ্গে সরকারি নথি, প্রশাসনিক তথ্য এবং নতুন প্রযুক্তিকে সমন্বয় করে আরও নির্ভুল ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান তৈরি করা। এর ফলে সরকার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতিমালা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি আরও কার্যকরভাবে প্রণয়ন করতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: বড় সিদ্ধান্ত HDFC ব্যাঙ্কের! এবার এই কর্মচারীরাও সাহায্য করবেন গ্রাহকদের, উন্নত হবে পরিষেবা
ডিজিটাল পেমেন্টের তথ্য জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে: দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার গ্রাহক ব্যয়ের একটি সুস্পষ্ট প্রবণতাও প্রতিফলিত করে। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে মুদি দোকান ও সুপারমার্কেটগুলিতে প্রায় ৭৯,৭০৫ কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে, ওষুধের দোকান ও ফার্মেসিতে ১২,৪২৮.৮ কোটি টাকার, পুরুষ ও মহিলার পোশাকের ক্ষেত্রে ১১,৭৯২.৯ কোটি টাকার এবং পারিবারিক পোশাকের দোকানে ৭,০৫৯.৮ কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, দেশের খুচরো বাজারে গ্রাহক ব্যয় শক্তিশালী রয়েছে।













