ভারতের আবিষ্কারে অবাক গোটা বিশ্ব! চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের ভাণ্ডারের সন্ধান দিল চন্দ্রযান-২

Published on:

Published on:

Chandrayaan-2 detects reserves of water at the Moon's South Pole.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করল চন্দ্রযান-২ (Chandrayaan-2)। ২০১৯ সালে উৎক্ষেপিত এই অভিযানের অরবিটার এবার চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বিশাল বরফস্তরের সন্ধান দিয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। ইসরোর তরফে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কিছু রাডার চিত্রে দেখা গিয়েছে, চাঁদের মাটিতে একাধিক গভীর গর্ত বা ক্রেটারের ভিতর বরফ জমে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই বরফস্তরের নীচে বিপুল পরিমাণ জমাট জল থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযান ও মহাকাশ গবেষণায় যুগান্তকারী ভূমিকা নিতে পারে। কারণ, চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসতি গড়তে জলই হতে চলেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের ভাণ্ডারের সন্ধান দিল চন্দ্রযান-২ (Chandrayaan-2)

ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর যে অংশে এই বরফের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, সেখানে সূর্যের আলো প্রায় কখনওই পৌঁছয় না। ফলে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা মাইনাস ২৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। এত কম তাপমাত্রার কারণে জল তরল অবস্থায় না থেকে বরফ হিসেবেই কোটি কোটি বছর ধরে জমাট অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, দক্ষিণ মেরুর কিছু গহ্বর এমনভাবে অবস্থান করছে যেখানে স্থায়ী ছায়া তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই সেখানে বরফ গলে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। চন্দ্রযান-২-এর অরবিটারের পাঠানো রাডার চিত্র বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সীমান্তে ১৫ কিমির মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে সব বেআইনি নির্মাণ! কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

একসময় চন্দ্রযান-২ মিশনকে ‘ব্যর্থ’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল। কারণ, ২০১৯ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের সময় বিক্রম ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু সেই মিশনের অরবিটার এখনও সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে এবং নিয়মিত তথ্য পাঠিয়ে চলেছে পৃথিবীতে। পরবর্তীকালে চন্দ্রযান-৩ সফলভাবে দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে ভারতের সম্মান অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তবে এবার নতুন করে নজর কাড়ল চন্দ্রযান-২। বিজ্ঞানীদের মতে, দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে প্রায় ১.১ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত একটি বরফে ঢাকা গহ্বরের ছবি ধরা পড়েছে। ওই গহ্বরের গভীর অংশে চন্দ্রযানের রাডার সিগন্যাল প্রতিফলিত হওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করেই বরফের উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

ইসরোর তরফে আরও জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে চন্দ্রযান-২ ধারাবাহিকভাবে দক্ষিণ মেরুর মৃত্তিকা, শিলাস্তর এবং বরফের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে তথ্য পাঠাচ্ছিল। চাঁদের দক্ষিণ মেরু অত্যন্ত দুর্গম এবং অসমান হওয়ায় সেখানে গবেষণা চালানো সহজ নয়। সেই অঞ্চলে বড় বড় খাদ, অন্ধকার গহ্বর এবং রুক্ষ পাথুরে ভূমি রয়েছে। ফলে সেখানে অবতরণ বা অনুসন্ধান প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন। তা সত্ত্বেও চন্দ্রযান-২-এর অরবিটার প্রায় ১৪০০টিরও বেশি রাডার পর্যবেক্ষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্যের মাধ্যমে শুধু বরফ নয়, চাঁদের অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন খনিজ পদার্থ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

Chandrayaan-2 detects reserves of water at the Moon's South Pole.

আরও পড়ুন: ইদের দিনেই সোনার দামে বড়সড় বদল, ২২ ও ২৪ ক্যারেটের লেটেস্ট রেট জানুন

মহাকাশ গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের মানব অভিযানের পথ আরও সুগম করবে। চাঁদের মাটিতে যদি স্থায়ীভাবে জলের উৎস পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে সেখানে অক্সিজেন উৎপাদন, জ্বালানি তৈরি এবং মানব বসতি গড়ে তোলার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। একইসঙ্গে চন্দ্রযান-২-এর অরবিটার যে এখনও কার্যকরভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে, সেটিও ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বড় প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, চন্দ্রযান-২ (Chandrayaan-2) থেকে প্রাপ্ত এই তথ্য আগামী দিনের চন্দ্রযান-৪ কিংবা অন্য আন্তর্জাতিক চন্দ্র অভিযানের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এই সাফল্য যে নতুন দিগন্ত খুলে দিল, তা বলাই যায়।