বাংলা হান্ট ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিন্স (Swami Vivekananda Scholarship) স্কলারশিপের অর্থের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার পড়ুয়ার জন্য এল স্বস্তির খবর। উচ্চশিক্ষা দফতর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনুমোদিত আবেদনগুলির টাকা ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে যাঁদের আবেদন বহুদিন ধরে ঝুলে ছিল, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে স্কলারশিপের অর্থ পৌঁছতে শুরু করবে। একইসঙ্গে আগামী শিক্ষাবর্ষের আবেদন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলেছে।
কবে ঢুকবে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের (Swami Vivekananda Scholarship) টাকা ?
রাজ্য বাজেট ঘোষণার পর একসময় এই শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকের আশঙ্কা ছিল, বরাদ্দ কমতে পারে কিংবা প্রকল্পে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে পরে রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, কোনও জনমুখী প্রকল্প বা শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করা হবে না। সেই ঘোষণার পর এবার বাস্তবেও স্কলারশিপ বিতরণের কাজ শুরু হওয়ায় সংশয় অনেকটাই কেটেছে।
এই প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবর্ষে প্রায় সাড়ে ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে যেসব আবেদনকারী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আবেদন করেছিলেন এবং এতদিন অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের প্রোফাইলে নতুন স্টেটাস দেখা যাচ্ছে। অনেকের আবেদনপত্রে এখন “Application Sanctioned (Scholarship Amount Disbursed)”লেখা প্রদর্শিত হচ্ছে। এই স্টেটাসের অর্থ হল, সংশ্লিষ্ট আবেদনটি উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে অনুমোদিত হয়েছে এবং অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর ট্রেজারির মাধ্যমে আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।
সমস্ত অর্থ একদিনে পাঠানো সম্ভব নয় বলে পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তাই কারও অ্যাকাউন্টে এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা পৌঁছতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগাও স্বাভাবিক।
অনেক আবেদনকারীর স্টেটাসে অনুমোদনের তথ্য দেখা গেলেও এখনও ব্যাঙ্কে টাকা জমা পড়েনি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। অর্থ স্থানান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে প্রত্যেক যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে স্কলারশিপের টাকা পৌঁছে যাবে।
বর্তমান শিক্ষাবর্ষের সমস্ত বকেয়া অর্থ বিতরণ সম্পূর্ণ হলে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সময় হিসেবে আগামী আগস্ট মাসের কথা উঠে এসেছে। নতুন আবেদন এবং রিনিউয়াল—দুটি প্রক্রিয়াই একই সময়ে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিকাশ ভবনের মাধ্যমে অর্থ বিতরণের প্রশাসনিক কাজ শুরু হয়েছে।
রাজ্যের স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর স্তরে অধ্যয়নরত পড়ুয়ারা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া গবেষণার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কয়েকটি শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট কোর্সের আগের পরীক্ষায় অন্তত ৬০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কম হতে হবে।
পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বৃত্তির পরিমাণও আলাদা। উচ্চমাধ্যমিক ও ডিএলএডের শিক্ষার্থীদের মাসিক ১,০০০ টাকা দেওয়া হবে। পলিটেকনিকের পড়ুয়ারা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা পাবেন। বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক এবং বিভিন্ন পেশাদারি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা, অর্থাৎ বছরে ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কলা ও বাণিজ্য বিভাগের স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীরা বছরে ১২ হাজার টাকা, অর্থাৎ মাসে ১,০০০ টাকা করে পাবেন।

আরও পড়ুন :৭ দিনের কাউন্টডাউন শুরু! ফুটপাতের হকারদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের
স্নাতকোত্তর স্তরে কলা ও বাণিজ্য বিভাগের পড়ুয়ারা প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ২,৫০০ টাকা করে পাবেন। পাশাপাশি আইআইটি-তে ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, নার্সিং, ফার্মেসি, বিএড ও পিএইচডি-সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার কোর্সও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মাসিক বৃত্তির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। স্কলারশিপের অর্থ বিতরণ শুরু হওয়ায় বহু পড়ুয়ার দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। এখন আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আবেদনপত্রের স্টেটাসে নিয়মিত নজর রাখার পাশাপাশি নতুন শিক্ষাবর্ষের আবেদন সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।













