বাংলা হান্ট ডেস্ক : তারাতলার গোডাউন ধসের মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার নবান্নে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে পরিবারে যদি মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) উত্তীর্ণ কোনও সদস্য থাকেন, তবে তাঁকে চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়।
তারাতলা কান্ডে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) আর্থিক সহায়তা
শুধু আর্থিক সহায়তা করেই দায়ভর ঝেড়ে ফেলেননি মুখ্যমন্ত্রী, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দিকেও নজর রাখার কথা জানায় রাজ্য প্রশাসন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা আপনাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। সবাই মিলে উদ্ধার কাজ করেছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি আনার কাজ করছে রাজ্য। আমি আজ পোস্টমর্টেম করতে আসেনি। আশ্বস্ত করছি যা যা করার সরকার করেছে। শ্রম দফতরের এই সংক্রান্ত একটা ফান্ড রয়েছে, সেখান থেকেই মৃতদের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকা করে তুলে দেওয়া হল। শ্রম দফতরের যে ফান্ড রয়েছে, সেখান থেকে এই পরিবারগুলি কীভাবে সহযোগিতা পায়, সেটা দেখতে বলেছি। আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে জানিয়ে দেবেন স্মিতা পান্ডে ম্যাডাম। আমাকে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, কিছু হেল্প করার জায়গা আছে। মাসে মাসে হেল্প করার। যারা এই ফ্যামিলিগুলিতে কলকাতায় থাকেন, আমি পুরসভা, কলকাতা পুলিশকে বলব যদি কোনও সহযোগিতা দরকার, তাহলে যেন করা হয়। আপনাদের সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে।”
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র এককালীন ক্ষতিপূরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে। শ্রম দফতরের তহবিল থেকে আরও কী ধরনের সুবিধা দেওয়া সম্ভব, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব পরিবার কলকাতার বাসিন্দা, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের মাধ্যমে সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। সমবেদনা জানাতে আপনাদের সঙ্গে আছি। দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল, পিছনে কারা আছেন, মানুষ কিছুটা জেনে গিয়েছেন। এই সরকার মানবিক সরকার। প্রথমত আমাদের চেষ্টা থাকবে বিগত সরকারের ভুলের জন্য এই ধরণের ঘটনা যেগুলো ঘটছে, তার জন্য যাতে মানুষকে মুক্তি দিতে পারি। বিগত দিনে দেখেছি পোস্তার ঘটনা বলুন, মাঝেরহাট, বড়বাজার ফায়ার ইনসিডেন্ট, কিছু দিন আগে তিলজলার ঘটনাও দেখেছি। সেখানে যেভাবে উদ্ধার হওয়া দরকার, সেই ভাবে হয়নি। আমরা সবাইকে বাঁচাতে পারলে খুশি হতাম। ১৭ জনকে বাঁচাতে পেরেছি, ১৬ জনকে বাঁচাতে পারিনি। অর্থনৈতিক ভাবে আপনারা অনেক দুর্বল। আপনাদের সরকার আপনাদের পাশে। আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে বলতে পারেন।”

আরও পড়ুন : পিএম কিষাণের টাকা পান? এই ৩ কারণে নাও মিলতে পারে পরবর্তী কিস্তি, জরুরি আপডেট জানুন
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আর্থিক নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলে এদিন স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। এককালীন আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।













