বাংলা হান্ট ডেস্ক : তারাতলার (Taratala Incident) গুদাম ধসের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। দুর্ঘটনার জেরে এবার কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, দুই কাউন্সিলর আনোয়ার খান ও শামস ইকবালের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ হল বিজেপির শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় জনতা মজদুর সেল। একইসঙ্গে উদ্ধার অভিযান চলতে থাকলেও মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।
তারাতলা কান্ডে (Taratala Incident) ফিরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের তরফে তারাতলা থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তিন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামস ইকবাল। সংগঠনের অভিযোগ, এই বিপর্যয়ের পিছনে কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সামনে আনতে হবে।
উল্লেখ্য, সেই কারণে তারা চার দফা দাবি পেশ করেছে। প্রথম দাবি, দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অবৈধ নির্মাণ এবং ধসের ঘটনায় যাঁদের গাফিলতি বা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করতে হবে। তৃতীয় দাবি অনুযায়ী, ফিরহাদ হাকিম, আনোয়ার খান ও শামস ইকবালকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। চতুর্থত, ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই কারণে এলাকার সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণের জরুরি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।
তারাতলা দুর্ঘটনায় শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬। উদ্ধারকাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বলেন, “নতুন করে কোনও গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না এখানে৷ প্রাথমিক অনুমান ভিতরে কেউ আর নেই৷ যদিও রেজিস্টার খাতা পাওয়া যায়নি কতজন ভিতরে সে সময় উপস্থিত ছিল সেটা নিয়ে একটা সন্দেহ রয়েছে৷ তাই এখানকার শ্রমিক এবং পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ভেতরে আর কেউ আটকে রয়েছে কিনা৷”

আরও পড়ুন : রেশন গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ! পরিবারপিছু নয়, এবার সদস্যপিছু খাদ্যশস্য?
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবারও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অব্যাহত থাকবে। উদ্ধারকারী দলকে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য মেডিক্যাল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারাতলার এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ কী, কার গাফিলতিতে এত প্রাণহানি, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তে জোর দিয়েছে প্রশাসন। একইসঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।













