বাংলাহান্ট ডেস্ক: কেরালার কোট্টায়ামের এক সাধারণ দম্পতির অসাধারণ সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ দেশজুড়ে চর্চার বিষয়। ৫৭ বছর বয়সী শিজে এবং তাঁর ৬৫ বছর বয়সী স্বামী টি.জে. থানকাচান প্রমাণ করে দিয়েছেন, সীমিত পুঁজি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে শখও বড় ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। মাত্র ২৫০ টাকা বিনিয়োগ করে বাড়ির বারান্দা থেকে শুরু হওয়া তাঁদের উদ্যোগ আজ ‘কুন ফ্রেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে, যার বার্ষিক মাশরুম উৎপাদন প্রায় ১২ টন এবং টার্নওভার প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা।
কুন ফ্রেশের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
২০০৭ সালে এই যাত্রার সূচনা। সংসারের একঘেয়েমি কাটাতে শিজে প্রথমে শখের বশে মাশরুম চাষ শুরু করেন। তাঁর এই আগ্রহে শুরু থেকেই পাশে ছিলেন স্বামী থানকাচান, যিনি তখন একটি সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। কৃষিকাজে দু’জনেরই আগ্রহ ছিল। অল্প টাকায় মাশরুমের বেড ও স্পন কিনে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয় তাঁদের বাড়ির বারান্দায়। শুরুতে লাভের কথা ভাবেননি তাঁরা, কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতের দিশা দেখায়।
আরও পড়ুন: UAE-র প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের পরেই ঘুরে গেল খেলা! পাকিস্তান পেল বড়সড় ঝটকা
টানা কয়েক বছর গবেষণা ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পর ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কুন ফ্রেশ’ ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় বাজারে মাশরুম নিয়ে সচেতনতা ছিল কম। থানকাচান তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন লেখা ও প্রচারের মাধ্যমে মাশরুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মানুষকে জানাতে শুরু করেন। লুলু ইন্টারন্যাশনাল শপিং মলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্ডার আসতেই তাঁরা বুঝতে পারেন, সঠিক ব্র্যান্ডিং ও মান বজায় রাখলে বড় বাজার তৈরি করা সম্ভব।
শুধু তাজা মাশরুম বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি শিজে ও থানকাচান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা মাশরুম মোমো, কাটলেট, আচার, চাটনি গুঁড়ো এবং মাশরুম-ফর্টিফায়েড কেকের মতো নানা মূল্য সংযোজিত পণ্য বাজারে আনেন। তাঁদের পেটেন্ট করা পণ্য ‘কুন ভিটা’ ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণে সহায়ক বলে দাবি করা হয়। বর্তমানে তাঁদের খামার পাঁচটি বেড থেকে বেড়ে প্রায় ৬,০০০ বেডের আধুনিক বায়ো-হাই-টেক ফার্মে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: আম্বানি পিছু হটলেও এগিয়ে এল সরকারি কোম্পানি! রাশিয়ান তেল কেনায় এবার নয়া চমক
আজ ‘কুন ফ্রেশ’ থেকে বছরে প্রায় ৯ মিলিয়ন টাকা আয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। নিজেদের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের প্রতিও দায়িত্ব পালন করছেন এই দম্পতি। এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী ও কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করেছেন তাঁরা। আইসিএআর-এর মতো সংস্থার স্বীকৃতি পাওয়া এই উদ্যোগ শুধু ব্যবসার সাফল্যের গল্প নয়, বরং ছোট কৃষক ও গৃহিণীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।












