আম্বানি পিছু হটলেও এগিয়ে এল সরকারি কোম্পানি! রাশিয়ান তেল কেনায় এবার নয়া চমক

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল (Russian Oil Import) কেনাকে ঘিরে এক নতুন “শক্তির খেলা” শুরু হয়েছে। এক সময় রাশিয়ান তেলের বিশ্বের বৃহত্তম ক্রেতা হিসেবে পরিচিত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (RIL) জানুয়ারি মাসে এক ব্যারেলও তেল না কেনায় এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিপরীতে, রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের উপর বড় বাজি ধরছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ান তেলের ছাড় বেড়ে যাওয়াই এই কৌশলগত বদলের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন শিল্প বিশ্লেষকেরা।

রাশিয়ান তেল (Russian Oil Import) কেনায় আম্বানি পিছু হটলেও এগিয়ে এল সরকারি কোম্পানি

জাহাজ পর্যবেক্ষণ তথ্য ও শিল্প সূত্র অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম তিন সপ্তাহে রিলায়েন্স রাশিয়া থেকে কোনও অপরিশোধিত তেল আমদানি করেনি। অথচ ২০২৫ সালে সংস্থাটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ লক্ষ ব্যারেল রাশিয়ান তেল কিনত এবং তখনই তারা বিশ্বের বৃহত্তম রাশিয়ান তেল ক্রেতায় পরিণত হয়। এই হঠাৎ অবস্থান বদল বাজারে কৌতূহল তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ ঝুঁকি, নিষেধাজ্ঞাজনিত জটিলতা এবং বাণিজ্যিক কৌশলের পুনর্মূল্যায়নের কারণেই রিলায়েন্স আপাতত পিছিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন: বছরের শুরুতেই বড় পদক্ষেপের পথে Amazon! ঘুম উড়ল হাজার হাজার কর্মীর

অন্যদিকে, সরকারি খাতের তেল সংস্থাগুলি রাশিয়ান তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ৪ লক্ষ ৭০ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছে, যা তাদের সর্বোচ্চ স্তর। ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৪ লক্ষ ২৭ হাজার ব্যারেল। ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) জানুয়ারিতে দৈনিক ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ব্যারেল আমদানি করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় বেশি। একই সঙ্গে রোসনেফ্ট-সমর্থিত নায়ারা এনার্জি প্রায় ৪ লক্ষ ৬৯ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছে।

নায়ারা এনার্জির ক্ষেত্রে রাশিয়ান তেলের উপর নির্ভরতা প্রায় সম্পূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার ফলে সংস্থাটি অন্য উৎস থেকে তেল সংগ্রহে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সামগ্রিকভাবে জানুয়ারির প্রথম তিন সপ্তাহে ভারতের মোট রাশিয়ান তেল আমদানি সামান্য কমে দৈনিক প্রায় ১১ লক্ষ ব্যারেলে নেমেছে, যেখানে ডিসেম্বরে তা ছিল ১২ লক্ষ ব্যারেল। নভেম্বরে এই পরিমাণ ছিল আরও বেশি, প্রায় ১৮ লক্ষ ৪০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন।

Ambani backed away from russian oil import

আরও পড়ুন: আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা, সর্বত্রই ভারতীয় বাইকের দাপট! রফতানিতে নয়া রেকর্ড

এই পতনের বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে গত ২১ নভেম্বর রাশিয়ার দুই বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক রোসনেফ্ট ও লুকোয়েলের উপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। তবে একই সঙ্গে রাশিয়ান তেলের উপর ছাড় বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। ফলে একদিকে বেসরকারি সংস্থার সতর্কতা, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আগ্রাসী ক্রয়—এই দ্বৈত কৌশলই ভারতে রাশিয়ান তেল কেনার নতুন শক্তির খেলাকে সংজ্ঞায়িত করছে।