বাংলা হান্ট ডেস্ক: গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সাল ভারতীয় মোটরসাইকেলের জন্য দুর্দান্ত ছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারত থেকে মোটরসাইকেল রফতানি (Motorcycle Export) পূর্বের বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে মোট ৪৩ লক্ষ মোটরসাইকেল রফতানি করা হয়েছিল। যা করোনার মতো ভয়াবহ মহামারীর পর থেকে সর্বোচ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে, মোট মোটরসাইকেল রফতানির ৪৩ শতাংশ জুড়ে রয়েছে বাজাজ অটো। অপরদিকে, টিভিএস মোটর এই পরিসংখ্যানে ২৯ শতাংশ স্থান দখল করেছে। সামগ্রিকভাবে এই ২ টি কোম্পানি প্রায় ৭২ শতাংশ মোটরসাইকেল রফতানি করেছে।
ভারতীয় বাইকের (Motorcycle Export) দাপট:
জানিয়ে রাখি যে, ২০২৫ সালে বাজাজ মোটরসাইকলের রফতানি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৯ লক্ষ ইউনিট। ২০২৪ সালে এটি ছিল ১৬ লক্ষ ইউনিট। এদিকে, টিভিএস মোটর ইন্ডিয়ার শিপমেন্ট ৯ লক্ষ ইউনিট থেকে বেড়ে ১৩ লক্ষ ইউনিটে পৌঁছেছে। এই প্রসঙ্গে ক্রিসিল রেটিং-এর ডিরেক্টর পুনম উপাধ্যায় জানান, ‘ভারতের শক্তিশালী উৎপাদন ক্ষমতা এবং বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের কারণেই দেশের মোটরসাইকেল রফতানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

সর্বোচ্চ রফতানি: উল্লেখ্য যে, করোনার মতো ভয়াবহ মহামারীর (২০১৭-২০১৯) আগেও ভারত থেকে মোটরসাইকেল রফতানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ২০১৭ সালে এটি ২৩ লক্ষ ইউনিটে পৌঁছয় এবং ২০১৯ সালে তা ৩১ লক্ষ ইউনিটে বৃদ্ধি পায়। মহামারীর আগে এটিই ছিল সেরা পরিসংখ্যান। ২০২০ সালে যখন বিশ্ব বাণিজ্য প্রভাবিত হয়েছিল, তখন রফতানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। তবে, রফতানির পরিসংখ্যান দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং ২০২১ সালে মহামারীর পূর্ববর্তী স্তরকেও তা ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: এত বড় ধোঁকা! এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করল BCB
মধ্যবর্তী বছরগুলিতে কিছু ওঠানামা সত্ত্বেও, ২০২৫ সালে রফতানি সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৩ লক্ষ ইউনিটে পৌঁছেছে। এটি ২০১৯ সালের মহামারীর পূর্ববর্তী শীর্ষের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। জানিয়ে রাখি যে, ভারত থেকে মোটরসাইকেলের রফতানি বৃদ্ধির নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বাজাজ অটো এবং টিভিএস মোটরের মতো বড় কোম্পানিগুলি বিদেশে তাদের উপস্থিতি এবং মোটরসাইকেল রফতানির পরিসর প্রসারিত করেছে।
এই প্রসঙ্গে পুনম উপাধ্যায় জানান, ‘রফতানির ক্ষেত্রে এই চিত্তাকর্ষক বৃদ্ধি বেশ কয়েকটি উদীয়মান বাজারের জোরালো চাহিদার কারণে হয়েছে। লাতিন আমেরিকা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। যেখানে কলম্বিয়া এবং ব্রাজিল নেতৃত্ব দিচ্ছে। আফ্রিকাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে রয়েছে। নাইজেরিয়া ছিল প্রধান গন্তব্য। লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার মতো বাজারে উন্নত বৈদেশিক মুদ্রার সহজলভ্যতাও রফতানি বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া, নেপাল এবং ফিলিপিন্সের মতো এশীয় বাজারগুলিও রফতানিতে যোগদান করেছে।’












