বাংলা হান্ট ডেস্ক : সোমবার সকালে বিধানসভায় (West Bengal Assembly) ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিধানসভার ভিতরের শৌচালয় থেকে উদ্ধার হল এক কর্মীর দেহ। দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই ব্যক্তির কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন সহকর্মীরা। তারপরই সামনে আসে মৃত্যুর ঘটনা। খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছয় হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভা চত্বরে তৈরি হয় উদ্বেগ।
বিধানসভার (West Bengal Assembly) অন্দরে রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য
মৃত ব্যক্তি ৬২ বছর বয়সি উমেশচন্দ্র দাস, কলকাতার তিলজলা এলাকার বাসিন্দা। বিধানসভার ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একটি বেসরকারি ঠিকাদার সংস্থার অধীনে কাজ করতেন তিনি। উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই ক্যান্টিনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন উমেশচন্দ্র। কাজের সুবাদে বিধানসভা চত্বরেই তাঁর থাকার ব্যবস্থা ছিল। রাতে বাড়ি না ফিরে ক্যান্টিনেই ঘুমোতেন তিনি। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ শৌচালয়ে যান উমেশচন্দ্র। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তাঁকে আর বাইরে আসতে দেখা যায়নি। বিষয়টি নজরে আসে অন্য কর্মীদের। তাঁর খোঁজ নিতে শৌচালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দরজা ভিতর থেকে আটকানো।
প্রথমে ডাকাডাকি করে সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু কোনও উত্তর না মেলায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। সেখানে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় উমেশচন্দ্রকে। এরপর দেরি না করে বিধানসভার সচিব ও মার্শালকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর দেওয়া হয় হেয়ার স্ট্রিট থানাতেও। পুলিশ এসে শৌচালয় থেকে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। বিধানসভার মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায় ঘটনাটি অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর নজরে আনেন। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : নভেম্বর মাসে কবে টাকা ঢুকবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা, দিনক্ষণ জেনে নিশ্চিন্ত হন
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেহে কোনও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। সেই কারণে বয়সজনিত শারীরিক সমস্যার জেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে যে শৌচালয় থেকে দেহটি উদ্ধার হয়েছে, সেটি এবং সংলগ্ন জায়গা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। তদন্তের প্রয়োজনে ওই এলাকায় সাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আপাতত বিধানসভায় কোনও অধিবেশন না থাকায় সেখানে মানুষের আনাগোনাও কম। ফলে ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাতে বিশেষ অসুবিধার মুখে পড়তে হয়নি পুলিশকে।












