বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি লড়াই চলছে। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার মূল বিচারপর্ব ফেব্রুয়ারির শুরুতেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু তাতেই সবকিছু মিটে যায়নি। বরং আবার নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি টানাপোড়েন। রাজ্য সরকার ও কর্মচারী সংগঠনগুলির এই মামলায় এবার নতুন কিছু পদক্ষেপ সামনে এসেছে, যার দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।
ডিএ (Dearness Allowance) মামলায় মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছে রাজ্য
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ডিএ (Dearness Allowance) মামলায় একটি মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছে। মামলাটি “The State of West Bengal vs Confederation of State Government Employees” নামে তালিকাভুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মচারী সংগঠনগুলির দায়ের করা তিনটি আদালত অবমাননার (Contempt) মামলা। যে তিনটি সংগঠন এই কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করেছে, সেগুলি হল—
- কনফেডারেশন অফ স্টেট গভমেন্ট এমপ্লয়িজ
- সরকারি কর্মচারী পরিষদ
- সংগ্রামী যৌথমঞ্চ
এরফলে এখন সুপ্রিম কোর্টে একদিকে রয়েছে রাজ্য সরকারের একটি আবেদন, অন্যদিকে কর্মচারী সংগঠনগুলির তিনটি অবমাননার মামলা, সব মিলিয়ে আইনি লড়াই আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এখনও পর্যন্ত আদালতের তরফে ঘোষণা করা হয়নি।
স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ
ডিএ (Dearness Allowance) মামলার মূল নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই রিপোর্টে রাজ্য সরকারকে জানাতে হবে, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য তারা এখন পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে। এই নির্দেশের ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকারের অবস্থান কী হতে পারে, তা নিয়ে সরকারি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রিভিউ পিটিশন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার এই নির্দেশের বিরুদ্ধে একটি রিভিউ পিটিশনও জমা দিয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এখনও পর্যন্ত সেই রিভিউ পিটিশন নিয়ে কোনও নিশ্চিত আপডেট পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ যুবসাথীর টাকা পেতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কী থাকা জরুরি? জানুন সরকারি নিয়ম
আগামী দিনে আদালতের তরফে যদি এই মামলার (Dearness Allowance) অর্ডার বা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়, তবেই পুরো আইনি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। এখন আপাতত সুপ্রিম কোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের অসংখ্য সরকারি কর্মচারী।












