বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত বছরে মেলেনি এক কিস্তি ডিএ (Dearness Allowance)। চলতি বছর রয়েছে ভোট। ভোটের আগে সরকার তরফে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কোনো সুখবর আসতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে একাধিক মিডিয়া রিপোর্টে। তবে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের (State Government Employees)।
কিছুদিন আগেই ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বিজনেস কনক্লেভের মঞ্চ থেকে ডিএ ইস্যুতে বড় মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “ডিএ দেওয়া ম্যান্ডেটারি নয়। তবুও আমরা প্রতি বছর ১৮ শতাংশ হারে ডিএ দিই।” যা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কর্মচারীসমাজ। আর এবার ডিএ কর্মীদের অধিকার নয়, সরকারি অনুগ্রহ বলে আদালতে দাবি করল কেরলের বাম সরকার।
ডিএ কর্মীদের অধিকার নয়: কেরল সরকার | Dearness Allowance
কেরল হাই কোর্টে ডিএ সংক্রান্ত একটি মামলায় সিপিএম সরকারের দাবি, ডিএ কর্মীদের কোনও বাধ্যতামূলক সুবিধা নয়। এটি সরকারের নীতির উপর নির্ভর করে। সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা তথা ডিএ অধিকারের মধ্যে পড়ে না। এটা দেওয়া না দেওয়া সরকারের নীতির উপর নির্ভর করে।
কি নিয়ে মামলা?
কেরলের সরকারি কর্মীদের ছয় মাসের ডিএ বাম সরকার দেয়নি। সবমিলিয়ে অঙ্কটা প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। রাজ্য সরকারি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ইস্যুতে আওয়াজ তুলে কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষমেষ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের পক্ষে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয় বলে আদালতে জানায় রাজ্য।
কেরল সরকার জানায়, এই মুহূর্তে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা দিতে গেলে রাজ্যের উপর এমন অর্থনৈতিক ধাক্কা আসবে যা সামলানো সম্ভব হবে না। এদিকে রাজ্যের কর্মীরা জানায়, রাজ্যের আর্থিক দশার দায় সরকারের। সেজন্য তাঁরা কেন নিজের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হবেন সেই প্রশ্ন তোলেন তারা।
আরও পড়ুন: মমতার বিরুদ্ধে ১০০ কোটির মামলা, জিতলে কী করবেন ওই টাকায়? স্পষ্ট জানালেন শুভেন্দু
এদিকে সরকার বলে, “ডিএ সরকারি কর্মীদের বেতনের অংশ বা অধিকার নয়। এটা দেওয়াটা সরকারি নীতির উপর নির্ভর করে।” একদিকে যেখানে বাংলায় বামপন্থী একাধিক সংগঠন ডিএ’র দাবিতে দিনের পর দিন আন্দোলন বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। আইনি লড়াই লড়ছে সেখানে কেরলের বাম সরকার ডিএ দিতে না চাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

উল্লেখ্য বাংলার ডিএ মামলার শুনানিতে আদালতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার লিখিত বক্তব্য জমা করে জানিয়েছিল, দেশের অন্তত ১২টি রাজ্য কেন্দ্রীয় হারে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ প্রদান করে না! সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল কেরলেরও। এবার হাইকোর্টেও কেরল সরকার একই অবস্থান নিল।












