বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহুদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) এবং রোপা ২০১৯ নিয়ে আইনি লড়াই এখন একেবারে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজ্যের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ইউনিটি ফোরাম একদিকে সুপ্রিম কোর্টে, অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টে নিজেদের লড়াই আরও জোরদার করেছে। এই পরিস্থিতিতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে সামনে এসেছে একাধিক বড় তথ্য।
সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ (Dearness Allowance)
বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) পরিশোধ নিয়ে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ না মানার অভিযোগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ইউনিটি ফোরাম। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, প্রথম কিস্তিতে অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেটাতে হবে, সময়সীমা ছিল ৬ মার্চ বা ৩১ মার্চের মধ্যে।
কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকার বকেয়া পরিশোধ করেনি। এর ফলে আদালত অবমাননার অভিযোগে একটি কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় লড়ছেন প্রবীণ আইনজীবী পরমজিত সিং পাটোয়ারিয়া এবং উদ্যম মুখার্জী। জানা যাচ্ছে, আগামী ১৫ এপ্রিল মূল মামলার সঙ্গে এই অবমাননা মামলারও একসঙ্গে শুনানি হতে পারে।
হাইকোর্টে নতুন করে আইনি লড়াই
সুপ্রিম কোর্ট ২০০৯ সালের রোপা অনুযায়ী ডিএ-কে (Dearness Allowance) আইনি অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে নির্দেশ ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মেটানোর। কিন্তু ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য নতুন করে মামলা করার প্রয়োজন পড়ে। প্রথমে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে (SAT) মামলা করা হলেও বিচারপতির অভাবে তা সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হয়। এই মামলার (WPST 70 of 2026) শুনানি আগামী ৬ এপ্রিল ২০২৬-এ বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদ এবং প্রসেনজিত বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চে হওয়ার কথা।
কর্মচারীদের মূল দাবিগুলি কী কী?
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি সামনে এসেছে, যা সরাসরি তাদের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে জড়িত। দাবি গুলি হল –
ডিএ-র সমতা: বঙ্গভবনের কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মচারীদের প্রায় ৪০ শতাংশ ডিএ-র পার্থক্য দূর করার দাবি
নগদ বকেয়া: ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৮ মাসের নোশনাল বেতন বৃদ্ধির বদলে প্রকৃত অর্থ হাতে দেওয়ার দাবি
HRA ও ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্স: কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা দেওয়ার দাবি
গ্র্যাচুইটির ঊর্ধ্বসীমা: অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি

আরও পড়ুনঃ এবার ভোটে পুলিশের উপর বাড়তি দায়িত্ব! পর্যবেক্ষকদের কী কী করতে হবে জানাল কমিশন
ইউনিটি ফোরামের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আইনি লড়াই চলবে। সুপ্রিম কোর্ট এবং হাই কোর্ট, দুই ক্ষেত্রেই এখন এই মামলার (Dearness Allowance) পরবর্তী শুনানির দিকে নজর সবার।












