বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরোলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে থাকেন। নিয়মমাফিক এদিনও বেশ কিছু প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর দিয়েছেন তিনি। কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) থেকে শুরু করে SRFTI বিতর্ক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে কী জানালেন তিনি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
বড্ড উল্টোপাল্টা বকেন কুণাল ঘোষ, লোক ইরিটেটেড হয় : দিলীপ ঘোষ
এদিন কুণাল ঘোষের কথা জিজ্ঞাসা করতেই দিলীপবাবু বলেন, কুণাল ঘোষ যত ভাষণ দেবেন লোকের রাগ তত বাড়বে। ওই বাকি নেতারা তো ডিম খাচ্ছে না। উনি কেন এত উল্টাপাল্টা বকেন? এত ডায়লগ দেন কেন? লোক ইরিটেটেড হয়। সাবধান থাকুন না একটু! লোক যে রায় দিয়েছে সেটা আপনি মানছেন না কেন? আর আপনি বেলেঘাটায় জিতেছেন সেখানে লোক যদি ডিম মারে তাহলে আর কোথায় যাবেন আপনি? যাওয়ার তো কোন জায়গাই বাঁচবো না।
কুণাল ঘোষ বলছেন তাকে খুন করার চেষ্টা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, এসব যখন মানুষ অস্তিত্ব সংকটে ভোগে তখন এ ধরনের উল্টাপাল্টা বলে। অন্য কিছু বলুন উনি এভাবে খবরেই বেঁচে আছেন আর কোথাও নাই। আপনারা গুরুত্ব দিচ্ছেন সমাজের লোকেরা ভুলে গেছে।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসআরএফটিআই বিতর্ক ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে লাঠি থুতু নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করলে তিনি বলেন, দেখুন এই যে বিচ্ছিন্নতাবাদী দেশবিরোধী শক্তি যারা এতদিন সক্রিয় ছিল এখানে, বিভিন্ন সরকারের আওতায় এরা বেঁচে ছিল তারা আজকে এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছে। তাই এই ধরনের যে আমাদের সংস্কৃতি পরম্পরা বিরোধী ক্রিয়াকলাপ, মহাপুরুষদের অসম্মান করা এটা পশ্চিম বাংলার মানুষ মানবে না। আমরা দেখেছি নকশাল পিরিয়ডে এখানে সমস্ত মহাপুরুষদের মুখে কালি মুখে দিয়ে দেওয়া হতো মূর্তিতে ভেঙে দেওয়া হতো। সেই দিন গেছে তারই কিছু না কিছু উত্তরসরী বেঁচে আছে। সেই অভ্যাসটা ওরা ছাড়তে পারছে না। যদিও পড়ুয়াদের অভিযোগ যে বহিরাগত এসে তাদের মারধোর করেছে। তবে যারাই করেছে এভাবে যেটা করেছে এটা তো সমাজবিরোধী ক্রিয়াকলাপ এটা তো বরদাস্ত করা যায় না।
আরও পড়ুনঃ খেলাধুলাই পশ্চিমবঙ্গের জীবন! মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ নিতিন নবীন, দিলেন বড় বার্তা
পরবর্তীতে বোলপুর পুরসভার কাছে বিজেপির বুথ সভাপতির গুলিবিদ্ধ মৃতদে উদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। যার উত্তরে তিনি জানান, এটা সত্যিই চিন্তার বিষয়। এটা এ ধরনের হিংসা কোথাও ছিটপুট হচ্ছে এখনও। পুলিশ প্রশাসন এখনো পুরোপুরি চোস্ত হয়নি বা সমাজবিরোধীর যারা এ ধরনের ক্রিয়াকালাপ করত তারা পুরোপুরি শান্ত হয়নি। এটা আমাদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। আর এই নিয়ে পুরো ডিপার্টমেন্ট হোম ডিপার্টমেন্ট থেকে বাকি প্রশাসন সবাই লেগে আছেন এর শেষ করবই আমরা।
কংগ্রেসের হাতে হাত না মেলানোর পরে এবার মমতা ব্যানার্জী ভরসা সিপিএম? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানান, মমতা ব্যানার্জীর উপরে কেউ ভরসা করে না। উনি তো প্রতি মাসে ভরসা পাল্টান। কে উনার উপর ভরসা করবে? দেখেন উনি কি করে কার হাত ধরলে বাঁচবেন। এখন তো খরকুটো সম্বল ওনার।
এছাড়া হরিদেবপুরের ক্লাব অজয় সংতি সেখানে কাল রাত্রিবেলা দুষ্কৃতি তান্ডব হয়েছে। যিনি স্থানীয় কাউন্সিলর ছিলেন তিনি বিজেপিকে দোষারোপ করছে। একটা সহজ পন্থা হয়ে গেছে বিজেপিকে বলে, যেহেতু ক্ষমতায় আছে বিজেপির কোন দায় নেই আর বিজেপির কোন রুচি নেই এসব কাজে যারা এতদিন করে আছে ৫০ বছর ধরে পশ্চিম হিংসার রাজনীতি চলেছে। মানুষের এখানকার রক্তে রক্তে এ ধরনের কালচার ঢুকে গেছে সেটা বার করতে একটু সময় লাগবে।













