যুদ্ধবিরতিতে ‘এক্সটেনশন’, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইরান সংঘাতে নয়া মোড়, শান্তি আলোচনায় সময় দিতে সাময়িক বিরতি বাড়াল আমেরিকা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান-আমেরিকা (US-Iran Ceasefire) সংঘাতে আপাতত কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলা সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও সময় দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এই বর্ধিত সময়সীমা কতদিন পর্যন্ত চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির (US-Iran Ceasefire) সময়সীমা আরও বাড়ালেন ট্রাম্প

প্রায় ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের পর আমেরিকা প্রথমে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিল, যাতে ইরানও সম্মতি দেয়। পাকিস্তানে প্রথম দফার শান্তি আলোচনায় দুই দেশ অংশ নিলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে অনীহা দেখায় Iran। ২২ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন: ভারতীয় বিমান প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, পহেলগাঁও কাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে মেয়াদ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা পাকিস্তানের

মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, ইরানের নেতৃত্বকে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিতেই এই সময় বৃদ্ধি জরুরি। সেই কারণেই আপাতত কোনও সামরিক অভিযান চালাবে না মার্কিন সেনা, যদিও প্রয়োজনে তারা প্রস্তুত রয়েছে বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তবে যুদ্ধবিরতির মাঝেও চাপ বজায় রাখার কৌশল থেকে সরে আসেনি আমেরিকা। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলিতে জাহাজ চলাচলের উপর অবরোধ বহাল থাকবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন অঞ্চলে এই নিয়ন্ত্রণের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

Donald Trump extended US-Iran Ceasefire

আরও পড়ুন:‘একজন মুখ্যমন্ত্রী, তদন্তের মাঝে হঠাৎ করে ঢুকে পড়তে পারে না!’ I-PAC মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুদ্ধবিরতির (US-Iran Ceasefire) মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না এবং সময়সীমা শেষ হলেই সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত, এবং শান্তি আলোচনা কতটা সফল হবে, তা নিয়েই এখন নজর বিশ্ববাসীর।