বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রায়শই বলা হয়, সাফল্য (Success Story) কেবল সুযোগ-সুবিধার উপর নির্ভর করে না—আর সেই কথার জীবন্ত উদাহরণ পূর্ণিয়ার তরুণ চিকিৎসক ডঃ তারকেশ্বর কুমার। এক সময় যাঁর পায়ে পরার মতো চপ্পলও ছিল না, আজ তিনি পরিচিত “১০০ টাকার ডাক্তার” হিসেবে। দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নন, বরং অসহায়দের কাছে এক আশার আলো। সীমাহীন অভাবের মধ্যেও বাবার স্বপ্ন আর নিজের অদম্য সংকল্পকে সঙ্গী করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক অনন্য জীবনগাথা।
তারকেশ্বর কুমারের সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
কাটিহার জেলার মণিহারিতে এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম ডঃ তারকেশ্বরের। শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। তাঁর বাবা মাঠে খেটে সংসার চালাতেন, একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ছেলেকে পড়াশোনা করানো। সেই সময় চপ্পল কেনাও ছিল বিলাসিতা। ডঃ তারকেশ্বর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এক সময় তাঁর নিজের চপ্পল ছিল না, মা বস্তা সেলাই করে তা থেকেই চপ্পল বানিয়ে দিতেন, যা পরে তিনি স্কুলে যেতেন। দারিদ্র্যের কষ্ট আর সামাজিক বিদ্রুপের মধ্যেও মা–বাবার ভালোবাসা ও বিশ্বাসই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
আরও পড়ুন: প্রেমের দিনেই সাত পাক, ‘অনুজ স্যার’ রণজয়ের থেকে ‘গুড্ডি’ শ্যামৌপ্তি কত ছোট জানেন?
ডঃ তারকেশ্বরের বাবার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ছিল—ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার হবে এবং অসুস্থ মানুষের সেবা করবে। সেই স্বপ্নই তরুণ তারকেশ্বরের জীবনের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। সীমিত সম্পদ, আর্থিক অনটন ও প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি দিনরাত পরিশ্রম চালিয়ে যান। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি পাটনার মর্যাদাপূর্ণ আইজিআইএমএস থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ছেলের সাফল্যের মধ্য দিয়ে এক সাধারণ কৃষকের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পায়।
আজ ডঃ তারকেশ্বর কুমার পূর্ণিয়ার রাম চরিত্র যাদব মাল্টি-স্পেশালিস্ট হাসপাতালের পরিচালক। চিকিৎসা জগতে যেখানে ফি ক্রমশ আকাশছোঁয়া, সেখানে তিনি মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে রোগীদের চিকিৎসা করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত কোনও প্রচারের জন্য নয়, বরং জীবনের এক অটল অঙ্গীকার। তিনি চান, টাকার অভাবে যেন কোনও দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ না হারায়। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে সাধারণ চিকিৎসকদের ভিড় থেকে আলাদা করে তুলেছে।

আরও পড়ুন: ‘ধন্যবাদ মহারাষ্ট্র’, BMC নির্বাচনে বিজেপি জোটের জয়ে আপ্লুত মোদী-শাহ! করে দেখালেন ফড়নবিশ
ডঃ তারকেশ্বরের কথায়, দারিদ্র্যের মধ্যেও তাঁর বাবা যেভাবে তাঁকে মানুষ করেছেন, সমাজের কাছে সেই ঋণ শোধ করাই তাঁর দায়িত্ব। তাঁর জীবনকাহিনি লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা, যারা দারিদ্র্যকে ব্যর্থতার কারণ বলে মেনে নেয়। চটের তৈরি চপ্পল পরা এক শিশুর থেকে “১০০ টাকার ডাক্তার” হয়ে ওঠার এই যাত্রা প্রমাণ করে, দৃঢ় সংকল্প আর সততা থাকলে কোনও বাধাই সাফল্যের পথে শেষ কথা হতে পারে না।












