বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বারবার বার্তা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই সময়েই দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO South Kolkata)-এর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তৈরি হল বড় বিতর্ক। বলিউড গানের লাইন ব্যবহার করে করা ওই পোস্টে রাজনৈতিক ইঙ্গিত আছে বলে অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। কী উদ্দেশ্যে এমন পোস্ট করা হল, তা জানতে দ্রুত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
কেন রিপোর্ট চাইল কমিশন (DEO South Kolkata)?
দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র (DEO South Kolkata) সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। সেই পোস্টে বলিউডের একটি জনপ্রিয় গানের লিঙ্ক শেয়ার করা হয় “হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে… ইয়ার জ্বলনে ওয়ালে কো জ্বালায়েঙ্গে…”। এর সঙ্গে ক্যাপশনে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও, একইসঙ্গে এমন কিছু মন্তব্য করা হয় যা নিয়ে আপত্তি ওঠে। সেখানে বলা হয়, কিছু মানুষ এতে ‘জ্বলতে’ পারে এবং দাগী অপরাধীদের সাবধান থাকতে বলা হয়। এমনকি বার্নল বা বোরোলিন মজুত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়, যা নিয়েই মূল বিতর্কের সূত্রপাত।
কী জানতে চেয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক?
এই পোস্ট সামনে আসতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ডিইও-র (DEO South Kolkata) কাছে ব্যাখ্যা চান। কেন এমন পোস্ট করা হল? এর উদ্দেশ্য কী? এই সমস্ত প্রশ্নের লিখিত উত্তর দ্রুত জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচন চলাকালীন কোনও পদক্ষেপই যেন পক্ষপাতদুষ্ট বা বিতর্কিত না হয়।
ডিইও-র (DEO South Kolkata) এই পোস্টের পরেই সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই পোস্ট নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সরানোর দাবি তোলে। পাশাপাশি পোস্টটি মুছে ফেলারও আবেদন জানানো হয়। তাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ১২৩(২) অনুযায়ী এ ধরনের মন্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং তা অনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে ধরা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে চাপে তৃণমূল? কী বললেন অভিষেক
কোথা থেকে শুরু বিতর্ক?
পুরো বিতর্কের সূত্রপাত ওই একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকেই। ভোটারদের উদ্দেশ্যে বার্তা (DEO South Kolkata) দিতে গিয়ে যে ভাষা ও উপমা ব্যবহার করা হয়েছে, তা অনেকের মতে অপ্রাসঙ্গিক এবং রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ। এর ফলে, নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত রিপোর্ট চেয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।












