বাংলা হান্ট ডেস্ক : অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সংঘ (বিপিএমএস)-এর সাম্প্রতিক খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসার পর এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বেতন কাঠামো, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত থাকায় বিষয়টি এখন কর্মী মহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) সুখবর
বিপিএমএস তাদের খসড়ায় জানিয়েছে, বর্তমান বাজারদরে ১৮ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন দিয়ে জীবনধারণ করা কার্যত অসম্ভব। সংগঠনটি মাথাপিছু নিট জাতীয় উৎপাদন (NNP)-এর বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেছে, বেতন নির্ধারণে বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।
সেই কারণেই ন্যূনতম বেতন ৭২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সপ্তম বেতন কমিশনে যেখানে ৩ জনের পরিবার ধরা হয়েছিল, সেখানে বাস্তবে একজন কর্মচারীর ওপর অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মা-সহ পাঁচজনের দায়িত্ব থাকে। তাই ৫ সদস্যের পরিবার ধরে বেতন নির্ধারণের দাবি উঠেছে। যদিও হিসাব অনুযায়ী অঙ্কটি ৮৮ হাজার টাকা ছাড়াতে পারে, তবুও সরকারি আর্থিক সক্ষমতা মাথায় রেখে ৭২ হাজার টাকাতেই প্রস্তাব সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। বর্তমানে ২.৫৭ ফ্যাক্টরের পরিবর্তে সেটি ৪.০০ করার দাবি জানানো হয়েছে। এই পরিবর্তন হলে কর্মচারীদের হাতে পাওয়া প্রকৃত বেতন অনেকটাই বাড়বে। এছাড়াও, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি যথেষ্ট নয় এবং এতে কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ২ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করেছে, যা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে কর্মচারীদের আয় কিছুটা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবগুলি কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের, বিশেষ করে নিম্নস্তরের কর্মীদের জীবনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বেতন বৃদ্ধি, উন্নত ভাতা এবং সহজ পদোন্নতি ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁদের আর্থিক স্থিতি অনেকটাই মজবুত হবে। এখন নজর কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে, এই প্রস্তাবগুলির কতটা বাস্তবায়ন হয়, সেটাই দেখার।












