৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিন, রাজ্যের মুখ্য সচিবকে কড়া নির্দেশ দিয়ে চিঠি নির্বাচন কমিশনের

Published on:

Published on:

Election Commission: a strongly worded letter to the state's chief secretary has sent by ECI
Follow

বাংলা হান্ট: নির্বাচন কমিশন (Election Commission) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবের (Chief Secretary Of West Bengal) কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। রাজ্যের চার আধিকারিক এর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলো নির্বাচন কমিশন। এর জন্য তারা রাজ্য সরকারকে ৭২ ঘন্টার সময়সীমা দিয়েছে। তার মধ্যেই এই রিপোর্ট জমা করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন (Election Commission) কীসের  রিপোর্ট চাইল রাজ্যের কাছে?

যে চার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা হলেন তথাগত মন্ডল, দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে নির্বাচন কমিশন এফআইআর এর নির্দেশ দিয়েছিল। এ বিষয়ে তাকে দুবার চিঠিও দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও নির্দেশ কার্যকর হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইচআরও।

গত ২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এই দুই জেলার জেলাশাসককে নির্দেশ দেয় এই সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য। তারপর কুড়ি দিন কেটে গেলেও সেই নির্দেশ মানা হয়নি বলে কমিশনের তরফে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সিইও দপ্তর জেলাশাসকদের দুবার রিমাইন্ডার দেয়। কিন্তু তারপরেও নির্দেশ কার্যকর হয়নি। রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল এর পরামর্শ নেয়। পাল্টা চিঠি রাজ্য সরকারের দপ্তর থেকে সিইও এর দপ্তরে যায়।

রাজ্য সরকারের দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয় যে ওই চার আধিকারিকদের অপরাধ এর জন্য এফআইআর করা ঠিক নয়। কারণ তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে বেশি শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ লঘু দোষে গুরুদন্ড দেওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে সিইও এর দপ্তরে চিঠি দেয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল কমিশনার। নির্বাচন কমিশনের দিল্লি অফিসে সেই চিঠি পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: ১৮,৯০০ নামের তালিকা, শুরু হতে চলেছে কাউন্সেলিং, একাদশ-দ্বাদশ নিয়োগ নিয়ে প্রকাশ্যে বড় আপডেট

Election Commission: a strongly worded letter to the state's chief secretary has sent by ECI

এরপর বুধবার রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন। যে অফিসার বা আধিকারিকরা এবং যে দপ্তর কমিশনের কথা না শুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাইতে হবে, বলে রাজ্যের মুখ্য সচিব কে চিঠি দিয়ে জানায় কমিশন এবং কেন নিয়ম মানা হয়নি সে ব্যাখ্যাও চাইতে হবে। ২৪ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটার মধ্যে রাজ্যকে এই রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইচআরও হিসেবে কাজ করছিলেন দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং তথাগত মন্ডল আর ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। এদের মধ্যে সুদীপ্ত দাস তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট এবং অডিট অফিসার হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। বিপ্লব সরকার পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়কের জেলা অফিসার, দেবত্তম দত্ত চৌধুরী দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতেন এবং তথাগত মন্ডল জয়নগর ১ ব্লকের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এই চার আধিকারিক ডব্লিউবিসিএস অফিসার। এরা ছাড়াও সুরজিৎ হালদার নামে একজন ডেটা এন্ট্রি কর্মীর নামেও এফআইআর এর নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।