বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো রুখতে এবার আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কমিশনের (Election Commission)
ভোট ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে ১১ হাজারেরও বেশি সন্দেহজনক পোস্ট শনাক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে সমাজমাধ্যম ব্যবহারের নিয়মাবলি মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে কমিশন জানিয়েছে, সমাজমাধ্যম এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমন পোস্টের বিরুদ্ধে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
কমিশন বলেছে, “কোনও এআই নির্মিত জিনিস প্রচারে ব্যবহার করা হলে তার গায়ে ‘এআই নির্মিত’ বলে উল্লেখ করে দিতে হবে।” পশ্চিমবঙ্গ সহ অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরীতেও সমাজমাধ্যমের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। কমিশন খতিয়ে দেখছে, কোনও পোস্ট আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে কি না, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে কি না, কিংবা ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে কি না।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি এমন পোস্ট চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বহু পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৬ ধারা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার সংক্রান্ত কোনও বিষয় প্রচার করা যাবে না সমাজমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যম—উভয় ক্ষেত্রেই।

আরও পড়ুন :বোরখা-ঘোমটা পরা ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে কড়া নজর নির্বাচন কমিশনের
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৯৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৯৬.০১ শতাংশ অভিযোগ মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যেই নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও ধরনের ভুয়ো তথ্য বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই সমাজমাধ্যমে নজরদারি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন।












