বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সদর দপ্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তৈরি হল নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ঘণ্টাখানেকের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক ‘বয়কট’ করে বেরিয়ে এসে কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। অন্যদিকে, বৈঠকের পরই পাল্টা বিবৃতি দিয়ে কমিশন জানিয়ে দেয় যে, তৃণমূলের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে এবং উল্টে দলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলে তারা। ফলে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।
কমিশনারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ মমতার
প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠক শেষে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন তাঁদের কথা শোনেনি, এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রকাশ্যেই “মিথ্যাবাদী” বলে আক্রমণ করেন তিনি। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, তৃণমূলের তরফে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও সদর্থক জবাব পাওয়া যায়নি বলেই তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, এই বৈঠকে তাঁদের কার্যত অপমান করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগের পরই পাল্টা বিবৃতি দেয় কমিশন (Election Commission)
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পরপরই পাল্টা বিবৃতি দেয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের তরফে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ওঠা সব প্রশ্নেরই যথাযথ উত্তর দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশন স্পষ্ট ভাষায় দাবি করে ‘তৃণমূলের বক্তব্য পুরোপুরি ভিত্তিহীন’।
শুধু তাই নয়, কমিশন (Election Commission) তাদের বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও আনে। কমিশনের বক্তব্য, তৃণমূলের বিধায়করা প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশন এবং বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করছেন। এমনকি নির্বাচনী কর্মকর্তাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। কমিশনের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী ও বিধায়করা ইআরও অফিস ভাঙচুর করেছেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছেন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয় কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়াও, এসআইআর সংক্রান্ত কাজে যুক্ত আধিকারিকদের উপর কোনও ধরনের চাপ, বাধা বা হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও কঠোর বার্তা দিয়েছে কমিশন (Election Commission)। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগে কমিশন জানায়, রাজ্য সরকার বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) সাম্মানিকের টাকা আটকে রেখেছে। দ্রুত সেই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্যও রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘বেআইনিভাবেই..’, IPAC মামলায় নয়া মোড়, সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা হলফনামা রাজ্যের
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের পর দু’পক্ষের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে, অন্যদিকে কমিশনের (Election Commission) দাবি তৃণমূলই নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করছে। ফলে এই সংঘাত আগামী দিনে কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।












