বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যাতে ভোটের সময় কোনও গন্ডগোল না হয়, সেই কারণেই আগেভাগে দাগি অপরাধীদের ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু নির্দেশই নয়, এবার নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, ভোটের অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগেই এই কাজ শেষ করতে হবে।
ভোটের আগে দাগি অপরাধীদের ধরার কড়া নির্দেশ কমিশনের (Election Commission)
ভোটের আগে ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’ বা আগাম গ্রেপ্তার নতুন কিছু নয়। প্রতি নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এই নির্দেশ দেয়। তবে এবারের পরিস্থিতি একটু আলাদা। পুলিশ প্রশাসনে একের পর এক বদলি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং কড়া নজরদারির মধ্যেই এবার সময় বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভোটের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাগিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। যে সমস্ত কেন্দ্রে ২৩ এপ্রিল ভোট রয়েছে, সেখানে ১৯ এপ্রিল রাতের মধ্যে এবং যেখানে ২৯ এপ্রিল ভোট, সেখানে ২৫ এপ্রিল রাতের মধ্যে এই অভিযান শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
কমিশনের (Election Commission) নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার সবচেয়ে সক্রিয় ১০ জন দাগি অপরাধীর তালিকা তৈরি করে জমা দিতে বলা হয়েছে। কলকাতায় যেহেতু ২৯ এপ্রিল ভোট, তাই শহরের প্রতিটি থানার কাছ থেকে এই তালিকা চাওয়া হয়। কলকাতায় মোট ৯১টি থানা থাকলেও এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯০ জন দাগি অপরাধীর নাম কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ অনেক থানাই একজন করেও নাম জমা দেয়নি।
কয়েকদিন আগেই প্রতিটি থানার অ্যান্টি-রাউডি অফিসারদের নিজেদের এলাকার দুষ্কৃতীদের নাম ‘রাফ রেজিস্টার’-এ নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনারদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, প্রতিটি থানায় তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
তবে এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে ‘সোনা পাপ্পু’ ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও গত দু’মাসে তাঁকে ধরতে পারেনি পুলিশ। উল্টে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বেলেঘাটা, তপসিয়া-তিলজলা, কড়েয়া, ফুলবাগান, বন্দর ও ভাঙড় এলাকায় বিশেষ নজরদারি চলছে। পাশাপাশি বেহালা, পর্ণশ্রী, ঠাকুরপুকুর, গিরিশ পার্ক, জোড়াবাগান এবং কলেজ স্ট্রিট এলাকাতেও চলছে কড়া পুলিশি অভিযান।

আরও পড়ুনঃ ট্রাইব্যুনালে ‘ক্লিয়ার’ হলেই ভোট? আজ সুপ্রিম কোর্টে বড় রায়ের অপেক্ষায় রাজ্য
কমিশন (Election Commission) আরও জানিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের আগে সমন পাঠিয়ে সতর্ক করা হবে। তাতেও কাজ না হলে, সরাসরি গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ কর্তাদের।












