বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের বড় প্রশাসনিক রদবদল করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এবার একসঙ্গে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বহু কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে রাজ্যে।
মোট ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলির নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)
রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক স্তরে বদল আনছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। আমলা থেকে পুলিশ, কেউই এই রদবদলের বাইরে থাকেননি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন রিটার্নিং অফিসাররা। মোট ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বদলির চিঠিতে সেই উল্লেখও রয়েছে। যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নতুন দায়িত্বস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার একটি বিবৃতি জারি করে কমিশন (Election Commission) জানায়, ১৯ মার্চ এবং ২৩ মার্চ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পাঠানো ইমেলের জবাবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ২৪ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নতুন জায়গায় পৌঁছতে হবে। এরপর ২৫ মার্চ সকাল ১১টা থেকে তাঁদের প্রশিক্ষণ পর্ব শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়াটির উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে রিটার্নিং অফিসার নিযুক্ত থাকেন। সেই হিসেবেই মোট ২৯৪ জন রিটার্নিং অফিসারের মধ্যে ৭৩ জনকে বদলি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মহকুমাশাসক পদে কর্মরত ছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা ভিত্তিক এই বদলিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়, যেখানে ১৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। এরপর রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর।
বিভিন্ন জায়গায় নতুন নিয়োগও করা হয়েছে। তমলুকে সৌভিক মুখোপাধ্যায়, বিধাননগরে প্রিয়াংশা গর্গ, মুর্শিদাবাদে পূজা মীনা এবং তুফানগঞ্জে শান্তনু কর্মকার দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে ভবানীপুরে ল্যান্ড অ্যান্ড রেকর্ডসের অতিরিক্ত ডিরেক্টর সুরজিত রায়ের নাম রয়েছে। প্রসঙ্গত, ভোট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। পরে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে তামিলনাড়ুর পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়। এরপর পুলিশ প্রশাসনেও একাধিক বড়সড় বদল আনা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার, ডিজি, এডিজি থেকে শুরু করে জেলাশাসক ও ডিআইজি স্তর পর্যন্ত।

আরও পড়ুনঃ লিফ্টে মৃত্যুতে চাঞ্চল্য! এবার সরাসরি প্রধান বিচারপতির নজরে আরজি কর কাণ্ড, মামলা দায়েরের অনুমতি
এই ধারাবাহিক বদলির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং কমিশনের (Election Commission) সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন।












