বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে লিফ্টের মধ্যে আটকে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতিও মিলেছে।
কী ঘটেছে?
গত শুক্রবার ভোরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনের একটি লিফ্টে আটকে মৃত্যু হয় দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অসুস্থ পুত্রের চিকিৎসার জন্য তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। চিকিৎসার মাঝেই তাঁর পুত্র শৌচালয়ে যেতে চাইলে অরূপ এবং তাঁর স্ত্রী তাকে নিয়ে লিফ্টে ওঠেন। অভিযোগ, সেই সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লিফ্ট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বেসমেন্টে গিয়ে আটকে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকার পর লিফ্টের দরজার সঙ্গে সিমেন্টের দেওয়ালে ঘষটে অরূপের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। মামলাকারীর আবেদন শোনার পর তিনি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়েরের অনুমতি দেন। মামলা দায়েরের পর শীঘ্রই শুনানির দিন নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরই তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই অনিচ্ছাকৃত হত্যার মামলা রুজু করা হয়েছে। লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগ তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে। এই ঘটনায় তিন জন লিফ্টম্যান এবং দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
পরিকাঠামো নিয়ে ফের প্রশ্ন
এই ঘটনার জেরে আরজি কর হাসপাতালের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগস্টে এই একই হাসপাতালে রাতের ডিউটিতে থাকা এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। সেই সময় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও, সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও সেই ব্যবস্থার ফাঁকফোকর সামনে এসেছে।

এরই মধ্যে সোমবার ট্রমা কেয়ার ভবনেই ফের অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। এক রোগীর পরিবারের দাবি, শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশ্বজিৎ সামন্ত নামে এক প্রৌঢ়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে একাধিক ঘটনায় আরজি কর হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরাল হচ্ছে, যা নিয়ে এখন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। এখন হাই কোর্টে (Calcutta High Court) এই মামলার জল কতদূর গড়ায় সেটাই দেখার।












