বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কোনও সাক্ষী ছাড়া শুধুমাত্র বিয়ের ছবি দেখিয়ে কোনও যুগলকে স্বামী-স্ত্রী প্রমাণ করা যায় না। এক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে শুধুমাত্র ছবি যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয় বিয়ের দায়ে চাকরি হারানো এক আরপিএফ (RPF) কর্মীর মামলায় এবার এমনই মন্তব্য করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। একইসঙ্গে বড় নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
কী নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট? | (Calcutta High Court)
মামলাকারী যুবক রেলসুরক্ষা বাহিনী তথা আরপিএফের কর্মী। দ্বিতীয় বিয়ের দায়ে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ হিসেবে ‘স্বাধীন’ ও ‘নির্ভরযোগ্য’ প্রমাণ থাকা দরকার। শুধুমাত্র বিয়ের ছবি এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। এরপর ওই আরপিএফ কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয় আদালত।
আরও পড়ুনঃ মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক নিয়ে হাই কোর্টে মামলা, কী নির্দেশ দিল বেঞ্চ?
হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে ওই রেলকর্মীর স্ত্রী রেলের কাছে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ করেন। তবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় বিভাগীয় তদন্ত।
তদন্তকারী অফিসার জানান, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। এরপর ওই কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলে তিনি সোজা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলাকারীর বক্তব্য, শুধুমাত্র অভিযোগ করলেই হয় না। দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণও তো দিতে হয়। তবে রেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ খতিয়ে না দেখে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে।
পাল্টা রেলের দাবি, তদন্তপ্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্তের স্ত্রী হাজির ছিলেন। তিনি অভিযুক্তের দ্বিতীয় বিয়ের কথা সমর্থন করেছেন। ‘মৌনীবাবা মঠ’এর এক রেজিস্টারে দ্বিতীয় বিয়ের নথি আছে। এমনকি বিয়ের একটি ছবিও হাতে এসেছে। সেই কারণে তদন্তকারী অফিসার ওই সিদ্ধান্ত নেন।
মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাস ও বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এখানে অভিযুক্তের স্ত্রীই অভিযোগকারী। শুধু তাঁর বক্তব্যকে সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। প্রমাণ হিসেবে এটি যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ স্বরূপ ‘স্বাধীন’ ও ‘নির্ভরযোগ্য’ প্রমাণ থাকা দরকার।
হাইকোর্ট জানায়, এক্ষেত্রে বিয়ের ছবিও যথেষ্ট নয়। প্রথমে স্পষ্ট হতে হবে, কী ঘটছে, ছবিতে কারা কারা আছেন ও সর্বোপরি আদৌ বিয়ে হয়েছে কিনা। এক্ষেত্রে ফটোগ্রাফারকেও সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়নি। ফলে দ্বিতীয় বিয়ের কোনও আইনি প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

পাশাপাশি বিচারপতি বিশ্বাস ও বিচারপতি প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আদালতকে মঠে রেজিস্ট্রির একটি ফটোকপি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বর-কনে অথবা কোনও সাক্ষীর সই নেই। ফলে সেই নথিকেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না।
এরপর রেলের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত খারিজ করে হাইকোর্ট জানায়, ওই আরপিএফ কর্মীকে ফের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। এক্ষেত্রে চার সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেয় আদালত। একইসঙ্গে পাঁচ বছরের অনুপস্থিতির সময়ের জন্য তাঁকে ‘নোশনাল সার্ভিস বেনিফিট’ দিতে হবে বলেও নির্দেশ দেয় আদালত।

















