বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের আর্থিক লেনদেন ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়। মঙ্গলবার কলকাতা ও সংলগ্ন একাধিক এলাকায় টানা তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে বলে দাবি করেছে ইডি (Enforcement Directorate)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দলীয় তহবিল থেকে একটি বেসরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থার কাছে বিপুল অঙ্কের অর্থ গিয়েছে। সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে দলীয় নেতাদের বিমান ব্যবহারের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি।
মঙ্গলবার তল্লাশিতে কী হাতে পেল ইডি (Enforcement Directorate) ?
মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট-নিউটাউন এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক টিম নিয়ে অভিযান শুরু করে ইডি। এই তল্লাশির মূল লক্ষ্য ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান ব্যবহার সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের নথি সংগ্রহ করা। তদন্তকারীদের নজরে ছিল বিমান পরিষেবা দেওয়া সংস্থা, সেই সংস্থার কর্ণধার, সংশ্লিষ্ট আর্থিক উপদেষ্টা এবং দলীয় তহবিল থেকে অর্থপ্রদানের সম্ভাব্য নথিপত্র।
ইডি জানায়, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ গিয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে। সেই কারণেই ওই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের খতিয়ান খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা অতীতে এই সংস্থার পরিষেবা নিয়েছেন বলে তদন্তকারীদের হাতে তথ্য এসেছে।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা অভিযোগও। তিনি দাবি করেছিলেন, চার্টার্ড বিমানের খরচের অর্থের উৎস ছিল কাটমানি এবং তোলাবাজির টাকা। সেই অভিযোগের বাস্তবতা যাচাই করতে বিমান ভাড়ার সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব, কত টাকা দেওয়া হয়েছে, কতদিন বিমান ব্যবহার করা হয়েছে এবং কার নির্দেশে অর্থপ্রদান করা হয়েছে— সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দলীয় তহবিল থেকে পাওয়া প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যবহার করে সংস্থাটি একটি বিমান এবং একটি অগুস্টা হেলিকপ্টার কিনেছিল। পরে সেই বিমান এবং হেলিকপ্টারই আবার তৃণমূল নেতাদের ভাড়ায় ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এই আর্থিক লেনদেনের ধরনকে কেন্দ্র করেই তদন্তে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে কোন কোন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা এসেছে, তা-ও জানতে চায় ইডি। এমনকী, ইডির দাবি, শিক্ষা দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতির কোনও টাকা তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে এসেছে কি না, সেই সংক্রান্ত তথ্যও জানতে চেয়ে ইডি তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন : শুধু ধর্ষণ-খুন নয়? বারুইপুর মামলায় সামনে এল আরও বড় সন্দেহ
মঙ্গলবার দিনভর তল্লাশির পর কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের কর্ণধার-সহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। সেই জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধার হওয়া নথি থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। এই তদন্তকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই মামলায় আরও নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল।













