নিষ্ক্রিয় ৩২ লক্ষ PF অ্যাকাউন্ট, পড়ে রয়েছে কোটি কোটি, টাকা ফেরাতে এবার বড় উদ্যোগ

Published on:

Published on:

EPFO Starts Auto Refund to Bank Accounts from April 1
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পিএফ বা প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPFO) হল চাকরিজীবীদের জন্য এক ধরনের সঞ্চয় প্রকল্প। চাকরি করার সময় প্রতি মাসে কর্মীর বেতন থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখা হয় এবং সেই সঙ্গে সংস্থাও কিছু টাকা যোগ করে। এই টাকা ধীরে ধীরে জমে বড় অঙ্কে পরিণত হয়, যা সাধারণত অবসর নেওয়ার পরে বা বিশেষ প্রয়োজনের সময় তোলা যায়। সহজভাবে বললে, ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্যই এই পিএফ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে পিএফ (EPFO)-এর টাকা পাঠানো

অনেকেই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর বা অবসর নেওয়ার পর পিএফে (EPFO) জমা টাকা আর তোলেন না। সেই টাকা বছরের পর বছর অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকে, পরে সেটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং সুদ পাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গ্রাহকের টাকাও আটকে থাকে, আবার সরকারও সেই টাকা ব্যবহার করতে পারে না। এই সমস্যার সমাধান করতেই এবার নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে ওই সব নিষ্ক্রিয় পিএফ অ্যাকাউন্টের টাকা ধাপে ধাপে সরাসরি গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের আলাদা করে কিছু করতে হবে না। পিএফ (EPFO) দপ্তর নিজে থেকেই টাকা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথমে যেসব অ্যাকাউন্টে ১০০০ টাকা বা তার কম জমা রয়েছে, সেগুলির টাকা অটো সেটেলমেন্টের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকাও মেটানো হবে।

পিএফ (EPFO) সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই আধার এবং ব্যাংক তথ্য সংযুক্ত রয়েছে, সেখানে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাবে। তবে যেখানে এই সংযোগ নেই, সেখানে গ্রাহকদের সচেতন করতে প্রচার চালানো হবে। আর যদি অ্যাকাউন্টধারী আর বেঁচে না থাকেন, তাহলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে পিএফ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৩২ লক্ষ নিষ্ক্রিয় পিএফ (EPFO) অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে জমে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ৭০০টি অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জমা রয়েছে। আবার প্রায় ৭ লক্ষ ১১ হাজার অ্যাকাউন্টে ১০০০ টাকারও কম টাকা পড়ে আছে, যেগুলো আগে নিষ্পত্তি করা হবে। তথ্য বলছে, ছোট অঙ্কের অনেক অ্যাকাউন্টেই এখনও আধার বা ব্যাংক সংযোগ হয়নি। যেমন ১০০০ টাকার কম থাকা অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে মাত্র ১ লক্ষ ৩২ হাজারে আধার যুক্ত রয়েছে এবং প্রায় ৬০ হাজার অ্যাকাউন্টে ব্যাংক সংযোগ রয়েছে। একইভাবে, ৫০ হাজার টাকার কম থাকা প্রায় সাড়ে ২৯ লক্ষ অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৭ লক্ষ ১৯ হাজারে আধার এবং সাড়ে পাঁচ লক্ষে ব্যাংক তথ্য যুক্ত রয়েছে।

এই উদ্যোগকে সফল করতে প্রায় ১৮ লক্ষ গ্রাহকের কাছে এসএমএস পাঠানো হবে। পাশাপাশি, প্রায় ছয় লক্ষ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবে পিএফ (EPFO) দপ্তর, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। প্রতি মাসের ২৭ তারিখে বিভিন্ন জেলায় শিবির করে এই সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থাও রাখা হবে। সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে প্রচার চলবে। পিএফ বোর্ডের সদস্য শিবপ্রসাদ তিওয়ারি জানিয়েছেন, প্রথম ছয় মাস ধরে ১০০০ টাকা বা তার কম থাকা অ্যাকাউন্টগুলির টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এরপর ধীরে ধীরে বড় অঙ্কের অ্যাকাউন্টগুলির নিষ্পত্তি হবে। তবে যেসব অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকার বেশি রয়েছে, সেখানে টাকা পাঠানোর আগে দু’বার যাচাই করা হবে, যাতে কোনও ভুল না হয়।

 

আরও পড়ুনঃ ‘এই লাইনটা বাদ দিন’, বাংলাকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে আর্জি কপিল সিব্বলের, কী বলেছিল আদালত?

এই সিদ্ধান্তে বহু মানুষ উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যাঁদের এখনও পিএফের (EPFO) টাকা পড়ে আছে, তাঁরা দ্রুত পিএফ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান আরও দ্রুত হতে পারে।