বাংলা হান্ট ডেস্ক: শহরাঞ্চল থেকে প্রায়শই যানজট, জলের সমস্যা বা দুর্বল পরিকাঠামোর অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতির দিকে নজর দিচ্ছে সরকার। এমতাবস্থায়, কেন্দ্রীয় সরকারের একটি নতুন সিদ্ধান্ত এদিক থেকে দেশজুড়ে (India) স্বস্তির আশা নিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা শহরগুলিকে উন্নত করার জন্য ‘আরবান চ্যালেঞ্জ ফান্ড’-এর অনুমোদন করেছে। ১ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দের এই ফান্ড দেশের নগর উন্নয়নে একটি নতুন দিশা দেবে।
পাল্টে যাবে দেশের (India) ছবি:
এই নতুন পরিকল্পনা কী: মূলত, সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নগর উন্নয়ন আর পুরনো ধাঁচের ওপর ভিত্তি করে হবে না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, এই নতুন উদ্যোগে ১০ লক্ষেরও বেশি জনসংখ্যার শহর, রাজ্যের রাজধানী এবং প্রধান শিল্প শহরগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রকল্পের বিষয়টি আকর্ষণীয় এবং আশাব্যঞ্জক। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও প্রকল্পের খরচের ২৫ শতাংশ বহন করবে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। প্রকল্পের ফান্ডের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বাজার থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

অর্থাৎ, সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শহরগুলিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। অনুমান করা হচ্ছে যে, এই উদ্যোগের ফলে আগামী ৫ বছরে শহরাঞ্চলে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকার উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। এর অর্থ হল, সামান্য সরকারি সহায়তার মাধ্যমে, নগর উন্নয়নে বাজারের উল্লেখযোগ্য মূলধন বিনিয়োগ করা হবে।
আরও পড়ুন: T20 বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ফের মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান? কী বলছে সমীকরণ?
শহরগুলি দেশের অগ্রগতির ইঞ্জিন হয়ে উঠবে: এই প্রসঙ্গে নীতি আয়োগের প্রাক্তন সিইও অমিতাভ কান্ত এহেন সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এই পরিকল্পনাকে দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় ইঞ্জিন হিসেবেও বিবেচিত করেছেন। অমিতাভ কান্ত বলেন যে, ভারতে নগরায়ণ সম্পর্কে দ্বিধা এখন দূর হচ্ছে। তিনি ‘X’ মাধ্যমে একটি উল্লেখযোগ্য লেখা লিখেছিলেন। যেখানে তিনি জানান, আগামী দশকগুলিতে নগরায়ণ ভারতের বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় বাহক হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যে ভারতের আর্বান সিস্টেম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। সমগ্র বিশ্বের শহুরে জনসংখ্যার ১১ শতাংশই ভারতীয় শহরের। এই হার আমেরিকা থেকে শুরু করে জার্মানি, জাপান এবং ব্রিটেনের সম্মিলিত নগর জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। অমিতাভ কান্তের মতে, এই ফান্ড শহরগুলিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। যা কেবল পরিকাঠামোগত উন্নতিই করবে না বরং মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত করবে।
আরও পড়ুন: ভারতের কাছে হেরে রেগে লাল! নিজের জামাই সহ আর কাদের দল থেকে বাদ দিতে চান শাহিদ আফ্রিদি?
পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে মিলবে অর্থ: জানিয়ে রাখি যে, এখনও পর্যন্ত শহরগুলিকে সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হত। কিন্তু, এখন পদ্ধতিটি পরিবর্তিত হয়েছে। একটি সরকারি বিবৃতি অনুসারে, এই প্রকল্পটি অনুদান-ভিত্তিক ফান্ড থেকে মার্কেট-লিঙ্কড এবং ফলাফল-ভিত্তিক মডেলের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এর অর্থ হল যে শহরগুলি সংস্কার বাস্তবায়িত করার মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ওপর মনোযোগ দেয় সেই শহরগুলি উপকৃত হবে। এই ফান্ডের মূল লক্ষ্য হল ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের জন্য শহরগুলিকে প্রস্তুত করা। শহরগুলি আর কেবল বসবাসের জায়গা থাকবে না, বরং বৃদ্ধির কেন্দ্র বা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির কেন্দ্রে পরিণত হবে। এই পরিকল্পনাটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। যা প্রয়োজনে ২০৩৩-৩৪ সাল পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।












