বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিশেষত করোনা কালে অর্থনৈতিক ধ্বসের কারণে অনেকেরই চাকরি-বাকরি চলে গিয়েছে। তাই বর্তমানে অনেকেই নতুন নতুন ব্যবসার কথা ভাবছেন। এমতাবস্থায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষও কিন্তু আপনাকে যথেষ্ট ভাল মুনাফা দিতে পারে। অনেকেই মনে করেন কৃষিকাজ থেকে তেমন ভালো আয় করার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে পারম্পরিক কৃষিকাজের বদলে যদি আপনি অন্য ধরনের ফার্মিং করেন, তাহলে যথেষ্ট ভাল মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। আজ তেমনই একটি কথা আপনাদের বলব।
আমরা বলছি তেজপাতা চাষের কথা। তেজপাতা এমন একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা ঔষধি নির্মাণে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয় খাবারের ক্ষেত্রেও, আমরা নানা পদে তেজপাতার ব্যবহার করে থাকি। স্যুপ, স্টু, মাংস, সামুদ্রিক খাবার এবং শাকসবজি প্রভৃতি রান্নার ক্ষেত্রে তেজপাতা একটি নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু। এটি চাষ করাও অত্যন্ত সহজ। এক্ষেত্রে প্রথমদিকে আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে এবং গাছের সঠিক যত্ন নিতে হবে ঠিকই কিন্তু একবার গাছ বড় হয়ে গেলে তখন সামান্য পরিচর্যাতেই বড় লাভ পাবেন আপনি।
এই চাষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারও কৃষকদের উৎসাহিত করছে, শুধু তাই নয় এক্ষেত্রে বড় ভর্তুকিও পেতে পারেন আপনি। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এ ক্ষেত্রে আপনার বিনিয়োগ অত্যন্ত কম। সাধারণত রাশিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইতালি, ফ্রান্স, উত্তর আমেরিকা এবং বেলজিয়ামে বিপুল পরিমাণে তেজপাতার চাষ করা হয়ে থাকে। এছাড়া ভারতেও বহু জায়গায় চাষীরা এই লাভজনক গাছের চাষকে বেছে নিয়েছেন।
তেজপাতা চাষে উৎসাহিত করার জন্য জাতীয় ঔষধি উদ্ভিদ বোর্ড কৃষকদের ৩০ শতাংশ অবধি ভর্তুকি প্রদান করে। সাধারণত তেজপাতা চাষের ক্ষেত্রে কতটা লাভ পাবেন কৃষকরা? সাধারণ হিসেব অনুযায়ী, তেজপাতার একটি গাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকা আয় করা সম্ভব, অর্থাৎ ৫০টি গাছ থেকে বছরে ১.৫০ থেকে ২.৫০ লাখ টাকা আয় করতে পারেন।