বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতা পুরভোটের (Municipal Election) আগে বদলে গেল একাধিক ওয়ার্ডের রাজনৈতিক সমীকরণ। ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে কোনগুলি মহিলা প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে, তা নিয়ে যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ করা হল সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা। নতুন তালিকা সামনে আসার পরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্দরে শুরু হয়েছে প্রার্থী বাছাইয়ের অঙ্ক কষা। সংরক্ষিত ওয়ার্ড অনুযায়ী পুরনো পরিকল্পনায় কোথায় পরিবর্তন আনতে হবে, তা নিয়েই এখন ব্যস্ত রাজনৈতিক শিবিরগুলি।
পুরভোটের (Municipal Election) আগে সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
চূড়ান্ত তালিকায় মোট ৭০টি আসন মহিলাদের জন্য রাখা হয়েছে। তার মধ্যে ৬৬টি সাধারণ মহিলা এবং চারটি তফসিলি জাতির মহিলা প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। তফসিলি মহিলা আসন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ২৫, ৭৫, ১৫৪ এবং ১৯৭ নম্বর ওয়ার্ড। পাশাপাশি তফসিলি জাতির সাধারণ প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৩১, ৫২, ১২৫, ১৪৪, ১৫৮, ১৯২, ২০০ এবং ২০১ নম্বর ওয়ার্ড। এসটি প্রার্থীদের জন্য অবশ্য কোনও আসন রাখা হয়নি।
সাধারণ মহিলা প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলির দীর্ঘ তালিকাতেও রয়েছে কয়েকটি পরিবর্তন। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী এই ওয়ার্ডগুলি হল—১, ৪, ৭, ১০, ১৩, ১৬, ১৯, ২২, ২৬, ২৯, ৩৩, ৩৬, ৩৯, ৪২, ৪৫, ৪৮, ৫১, ৫৫, ৫৮, ৬১, ৬৪, ৬৭, ৭০, ৭৩, ৭৭, ৮০, ৮৩, ৮৬, ৮৯, ৯২, ৯৫, ৯৮, ১০১, ১০৪, ১০৭, ১১০, ১১৩, ১১৬, ১১৯, ১২২, ১২৬, ১২৯, ১৩২, ১৩৫, ১৩৮, ১৪১, ১৪৫, ১৪৮, ১৫১, ১৫৫, ১৫৯, ১৬২, ১৬৫, ১৬৮, ১৭১, ১৭৪, ১৭৭, ১৮০, ১৮৩, ১৮৬, ১৮৯, ১৯৩, ১৯৬, ২০২, ২০৫ এবং ২০৮ নম্বর ওয়ার্ড।
চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী বাছাই। কোনও ওয়ার্ড সংরক্ষিত হয়ে যাওয়ায় সেখানে আগের সম্ভাব্য প্রার্থীর পরিবর্তে নতুন মুখ খুঁজতে হতে পারে। একইসঙ্গে মহিলা প্রার্থীদের মধ্যেও দলগুলিকে নতুন করে সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা করতে হবে। ফলে বিজেপি, তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেস—সব শিবিরেই প্রার্থী তালিকা নিয়ে ফের বৈঠক ও পর্যালোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৬ সেপ্টেম্বর যে খসড়া সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বাম শিবির। সংরক্ষণের নিয়ম এবং তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছিল তিন পক্ষ।
সংরক্ষণ নিয়ে আপত্তির মধ্যেই প্রশাসনের তরফে আইনি প্রক্রিয়াটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ পুর নির্বাচন আইনের বিধান মেনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারির তরফে ‘ফর্ম বি’-এর ৩ এবং ৪ নম্বর ধারা অনুসরণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন করে ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের পরই সংরক্ষণের হিসাবও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য।

আরও পড়ুন : খেলার মাঠের সাফল্যের পুরস্কারে চাকরি! ৭৮ পদকজয়ী ক্রীড়াবিদকে নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত নবান্নের
প্রশাসনের ব্যাখ্যা, আগে কলকাতা পুরসভায় ১৪৪টি ওয়ার্ড ছিল। সীমানা পুনর্বিন্যাসের পরে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০৯। ফলে নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসকে ভিত্তি করেই মহিলা সংরক্ষণের তালিকা তৈরি করতে হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী নভেম্বরের ২৮ অথবা ২৯ তারিখে কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট হতে পারে। যদিও ভোটের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণার বিষয়টি কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। কোন ওয়ার্ডে কোন মুখকে সামনে আনা হয়, তা নিয়ে আগামী দিনে কলকাতার পুরভোটের ছবিও আরও স্পষ্ট হবে।













