বাংলা হান্ট ডেস্কঃ SIR ঘোষণা হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ভোটের আগে দু মাসের মধ্যে কিভাবে SIR সম্পন্ন করা হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। কিন্তু অবশেষে দেশজুড়ে হয় SIR। সম্প্রতি শুরু হয়েছে SIR-এর শুনানি। এবার এই শুনানি ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।
SIR শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আতঙ্কের ছবি সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই নোটিশের চাপেই এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার দায়ে এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এবং বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আর এর পরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
নির্বাচন কমিশনারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে কী অভিযোগ দায়ের হয়েছে?
জানা গিয়েছে, SIR শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে দায়ী করে পুলিশে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ গ্রহণ হওয়ার পর প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই FIR আদৌ টিকবে কি না।
আইন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে সরাসরি FIR দায়ের করা যায় না। লোকপাল আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকলেই কেবল আইনি পদক্ষেপ সম্ভব। তাই কমিশনের তরফে এই FIR খারিজের আবেদন করা হতে পারে বলে খবর। এছাড়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা FIR দায়ের হতে পারে। একই সঙ্গে, যদি আইন না মেনে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী ও আধিকারিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, পুরুলিয়ায় ৮২ বছর বয়সি দুর্জন মাঝিকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছিল। তাঁর ছেলের অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবার নাম থাকলেও অনলাইনে তা দেখা যায়নি। এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই নোটিশ পাঠানো হয়। ভোটাধিকার নিয়ে দুশ্চিন্তায় শুনানির কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ।
এছাড়া হাওড়ায় ৬৪ বছর বয়সি জামায়াত আলি শেখ নোটিশ পাওয়ার পরপরই মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, মানসিক চাপে পড়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে ৭৫ বছর বয়সি বিমল শিকের দেহ বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই তিনি খুব ভেঙে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ৩১ ডিসেম্বরের রাত থেকে বদলাচ্ছে ট্রাফিক, কলকাতার কোন রুটে চলবে না গাড়ি? এক ক্লিকে দেখে নিন
উল্লেখ্য, ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, যাদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যায় অনলাইনে তা দেখা যাচ্ছে না, তাঁদের শুনানিতে যেতে হবে না। তা সত্ত্বেও বহু জায়গায় প্রবীণদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) জানিয়েছে, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের শুনানির জন্য আর কেন্দ্রে যেতে হবে না। তাঁদের বাড়িতেই শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।












