বাংলাহান্ট ডেস্ক: রেকর্ড আয় সত্ত্বেও কর্মীসংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে গুগল (Google)। গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার আয় করে সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কিন্তু সেই সাফল্যের মাঝেই সংস্থার অন্দরে শুরু হয়েছে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা কর্মীদের জন্য স্বেচ্ছা প্রস্থানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
AI-র দাপটে দিশেহারা খোদ গুগলের (Google) কর্মীরাই!
বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগলের চিফ বিজনেস অফিসার ফিলিপ সিন্ডলার কর্মীদের উদ্দেশে জানিয়েছেন, সংস্থার বিজনেস ইউনিটে কর্মরত যারা দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি-পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না, বিশেষত এআই-নির্ভর কাজের ক্ষেত্রে, তারা চাইলে স্বেচ্ছায় সংস্থা ছাড়তে পারেন। এই প্রক্রিয়াকে ‘ভলান্টারি এক্সিট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন, তাঁদের নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সেভারেন্স প্যাকেজ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে কমছে বেকারত্বের হার! গ্রামে-শহরে বাড়ছে কর্মসংস্থান, সামনে এল সরকারি পরিসংখ্যান
অভ্যন্তরীণ মেমোতে গ্লোবাল বিজনেস অর্গানাইজেশন ইউনিটের কর্মীদের এই সুযোগের কথা জানানো হয়েছে। সলিউশন টিম, সেলস, কর্পোরেট ডেভেলপমেন্ট-সহ একাধিক বিভাগের কর্মীরা এই প্রস্তাবের আওতায় পড়ছেন। সংস্থার তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির কৌশল এখন এআই-কেন্দ্রিক। ফলে কর্মীদেরও সেই অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যারা তা করতে অনিচ্ছুক বা অক্ষম, তাঁদের জন্য বিকল্প হিসেবে স্বেচ্ছা প্রস্থানই উপযুক্ত পথ বলে মনে করছে গুগল কর্তৃপক্ষ।
তবে সেভারেন্স প্যাকেজের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা। ফিলিপ সিন্ডলার জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাস্টমার সেলস টিম এবং যেসব টিম সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে যুক্ত, তারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। অর্থাৎ সকল কর্মীর জন্য সমান শর্ত প্রযোজ্য নয়। সংস্থা কার্যত কর্মদক্ষতা, ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

আরও পড়ুন: সাইবার প্রতারণার শিকার প্রাক্তন সিপি মনোজ বর্মার পুত্র! খুইয়েছেন হাজার হাজার টাকা
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গুগলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভলান্টারি এক্সিট নতুন নয়। অতীতেও সংস্থা পুনর্গঠনের সময়ে এমন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রযুক্তি শিল্পে বর্তমানে এআই-নির্ভর রূপান্তরের ঢেউ বইছে। অ্যামাজন, মেটা এবং মাইক্রোসফ্টের মতো সংস্থাও সম্প্রতি কর্মীদের জন্য একিয়া ইন্সেন্টিভ কর্মসূচি চালু করেছে, যেখানে এআই দক্ষতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে স্বেচ্ছা পদত্যাগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি সংস্থাগুলির এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ধরন ও দক্ষতার চাহিদায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।












