বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে ভারতে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (Foreign Direct Investment) তথা FDI ১৮ শতাংশ বেড়ে ৪৭.৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেখানে এই অর্থবর্ষে প্রথম ৯ মাসে আমেরিকা থেকে বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়ে ৭.৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, ২০২৪ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে FDI ছিল ৪০.৬৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে, ইক্যুইটিতে FDI ইনফ্লো প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২.৬৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। তবে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জুন-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের তুলনায় এটি ২৩ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। সেই সময়ে FDI ইনফ্লো ছিল ১৬.৫৫ বিলিয়ন ডলার।
কোন দেশ থেকে কত FDI (Foreign Direct Investment) এসেছে:
জানিয়ে রাখি যে, চলতি অর্থবর্ষে প্রথম ৯ মাসে মোট FDI (যার মধ্যে ইকুইটি ইনফ্লো, রি ইনভেস্টেড আর্নিং এবং অন্যান্য মূলধন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে) ১৭.৪ শতাংশ বেড়ে ৭৩.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২৪-২৫ সালের এই সময়ে ছিল ৬২.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। গত ৯ মাসে আমেরিকা থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে ৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২৪-২৫ সালের এপ্রিল-ডিসেম্বরে ছিল ৩.৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুর (১৭.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) FDI-র বৃহত্তম উৎস ছিল। উল্লেখ্য যে, ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৭৮.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতে তৃতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ হল আমেরিকা। একই সময়ে শীর্ষ বিনিয়োগের উৎস হল সিঙ্গাপুর (১৯২.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। তারপরে রয়েছে মরিশাস (১৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

কোন সেক্টরে সবচেয়ে বেশি FDI এসেছে: সেক্টরের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল-ডিসেম্বর মাসে কম্পিউটার সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারে ইনফ্লো বেড়ে ১০.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এরপরই রয়েছে পরিষেবা সেক্টরে ৮.৪২ বিলিয়ন ডলারের ইনফ্লো এবং ট্রেডিং হয়েছে। ৩.৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অপ্রচলিত জ্বালানি সেক্টরে ইনফ্লো হল ২.৫৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়াও, অটোমোবাইল সেক্টরে ইনফ্লো এসেছে ১.৮২ বিলিয়ন ডলার। কন্ট্রাকশন (ইনফ্রা) অ্যাকটিভিজে ইনফ্লো এসেছে ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রাসায়নিক দ্রব্যর ক্ষেত্রে এটি হল ৭০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তথ্য অনুসারে, এই সময়ের মধ্যে রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্র সর্বোচ্চ ১৫.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পেয়েছে।
আরও পড়ুন: সদ্য হারিয়েছেন বাবাকে! শোকের আবহেই টিম ইন্ডিয়ায় যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু, কী জানাল BCCI?
বিভিন্ন সেক্টরে ১০০ শতাংশ FDI: জানিয়ে রাখি যে, সরকার একটি ইনভেস্টার-ফ্রেন্ডলি FDI পলিসি লাগু করেছে। যার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অটোমেটিক রুটের মাধ্যমে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।এদিকে, সরকার বেশ কয়েকটি সেক্টরে FDI নিয়মকানুন সহজ করার জন্য সংস্কারও চালু করেছে। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে, প্রধান সংস্কারগুলির মধ্যে ছিল প্রতিরক্ষা, বিমা এবং পেনশন সেক্টরে FDI সীমা বৃদ্ধি এবং নির্মাণ। এছাড়াও, সিভিল এভিয়েশন এবং সিঙ্গেল ব্র্যান্ড রিটেল ট্রেডিংয়ের জন্য পলিসি শিথিল করা।
আরও পড়ুন: ফের বাজিমাত মুকেশ আম্বানির! এই কোম্পানিতে ২,০০০ কোটির বিনিয়োগ, সামনে এল পরিকল্পনা
উল্লেখ্য যে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, মূল সংস্কারগুলির মধ্যে ছিল কয়লা খনি, কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং ইন্সিওরেন্স ইন্টারমিডিয়ারি থেকে অটোমেটিক রুটের মাধ্যমে পিপি১০০ শতাংশ FDI অনুমোদন করা। গত অর্থবর্ষে, FDI ইক্যুইটি ইনফ্লো ছিল ৫০.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে মোট FDI ছিল ৮০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

















