বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহিলা সংরক্ষণ বিলকে (Women Reservation Bill) সামনে রেখে নতুন করে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াল কেন্দ্র। নরেন্দ্র মোদী সরকারের উদ্যোগে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলেছে। তার আগেই দেশের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে চিঠি লিখে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর প্রশংসা করেন। তিনি এই বিলকে ভারতের গণতন্ত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মহিলা সংরক্ষণ বিলের (Women Reservation Bill) প্রশংসা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রতিভা পাটিলের:
২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া এই বিল অনুযায়ী, লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়। শুরুতে বলা হয়েছিল, জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস করে সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। তবে এখন কেন্দ্র সেই অবস্থান বদল করে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে। এর ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগোতে চায় সরকার।
আরও পড়ুন: নীতীশ যুগের অবসান, শপথ নিলেন বিহারে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী
চিঠিতে প্রতিভা পাটিল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই আইন কেবল একটি সাংবিধানিক সংশোধন নয়, বরং এটি দেশের নারীদের ক্ষমতায়নের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। তাঁর মতে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থায় নারীদের বৃহত্তর উপস্থিতি নিশ্চিত হলে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে তিনি এটিকে লিঙ্গ সমতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নারী শক্তির উদ্দেশে এক খোলা চিঠিতে এই বিল দ্রুত কার্যকর করার পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন। তিনি বলেন, দেশের নারীদের আর অনন্তকাল অপেক্ষা করিয়ে রাখা উচিত নয়। সংসদীয় ব্যবস্থায় নারীদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হলে দেশের গণতন্ত্রও আরও দৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকার দ্রুত এই বিল বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন: পারফেক্ট ঝরঝরে ভাতের সিক্রেট ফাঁস! সরু চালে এই ৫ টিপসেই মিলবে সেরা ফল
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই বিল (Women Reservation Bill) কার্যকর হলে ভারতের রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়লে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে। তাই বিশেষ অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে প্রত্যাশা, এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এবার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।












