বাংলা হান্ট ডেস্ক: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (Free Trade Agreement) জেরে চা বলয়ে ছড়ালো খুশির আমেজ। ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে দার্জিলিং এর চা (Darjeeling Tea) শিল্প আবার পুনরুজ্জীবিত হবে। এই আশায় রয়েছে চা শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এই চুক্তির ফলে এবার ভারত সরাসরি ইউরোপীয় দেশগুলিতে চা পাঠাতে পারবে, ফলে বাড়বে চায়ের রপ্তানি।
দার্জিলিং চা (Darjeeling Tea)-এর বাড়বে রপ্তানি:
সত্তরের দশকে চায়ের উৎপাদন ছিল ১৪ মিলিয়ন কেজি। সেখান থেকে উৎপাদন কমে গিয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৫.২৫ মিলিয়ন কেজিতে। এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় বাজারে অসম এবং দার্জিলিং চায়ের প্রবেশ আরও সহজ হবে এবং শুল্ক কমবে। এটি চা শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধিতে এবং সেই সঙ্গে উৎপাদনকারীদের আয় বাড়াতে ও ভারতীয় চা শিল্পকে আরো সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে।
শুল্ক কমার ফলে দামও কমবে চায়ের। ভারতীয় চায়ের দাম যদি ইউরোপীয় বাজারে কমতে থাকে, সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে ভারত এবং কর্মসংস্থান আরো বাড়বে। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল ট্রি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে চায়ের রপ্তানি বাড়বে। ফলে চা শিল্প উপকৃত হবে।
আরও পড়ুন:যাত্রীদের সতর্কতা! রক্ষণাবেক্ষণের জেরে আদ্রা ডিভিশনে সপ্তাহান্তে ট্রেন চলাচলে বড় বদল
দার্জিলিং ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ১০ লক্ষ শ্রমিক এবং ৬০ লক্ষ মানুষ পরোক্ষভাবে চা শিল্পের উপর নির্ভরশীল। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান তথা দার্জিলিং পাহাড়ের চা শিল্পপতি সতীশ মিত্রুকা বলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তির ফলে ভারতের চা শিল্প খুবই উপকৃত হবে। বিশেষ করে দার্জিলিং চা। তিনি জানান যে, বছরে এখন ৫.২৫ মিলিয়ন দার্জিলিং চা উৎপাদন হয়ে থাকে। যার মধ্যে ৪ মিলিয়ন কেজি রপ্তানি হচ্ছে।
আরও পড়ুন:যাত্রীদের সতর্কতা! রক্ষণাবেক্ষণের জেরে আদ্রা ডিভিশনে সপ্তাহান্তে ট্রেন চলাচলে বড় বদল

এতদিন ভারত থেকে দুই মিলিয়ন চা যেত জার্মানিতে। সেখান থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেত। এখন সরাসরি সেই দেশগুলোতে ভারত দার্জিলিং চা পাঠাতে পারবে। আবহাওয়ার উপর চা শিল্প কিন্তু অনেকটাই নির্ভরশীল। বর্তমানে চা শিল্প অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। সেক্ষেত্রে এই চুক্তি বিশ্ব বাজারে ভারতের চা শিল্পকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে। এতে চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থান বাড়বে আর বিদেশের বাজারে সেই সঙ্গে ভারতীয় চায়ের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।











