বাংলা হান্ট ডেস্ক: ফুড ডেলিভারি সংস্থা সুইগি ইনস্টামার্টকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগের জেরে কড়া পদক্ষেপ করল ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নির্ধারণকারী সংস্থা FSSAI (Food Safety and Standards Authority of India)। সংস্থার বিরুদ্ধে পচা, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং খাওয়ার অনুপযোগী খাবার সরবরাহের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শুরু করা হয়। সেই তদন্তের ভিত্তিতে সুইগি ইনস্টামার্টকে মোট ৯টি শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। এফএসএসএআই জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব এবং প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা না দিলে সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনলাইন ফুড ডেলিভারি পরিষেবার খাদ্য নিরাপত্তা এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার বিক্রি জন্য এই সংস্থায় ৯ টি নোটিস পাঠাল FSSAI:
FSSAI-এর তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক উদ্বেগজনক তথ্য। অভিযোগ, সুইগি ইনস্টামার্টের মাধ্যমে এমন কিছু প্রোটিন পাউডার বিক্রি করা হয়েছে যার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি পচে যাওয়া ও দুর্গন্ধযুক্ত ডিম এবং নষ্ট পরোটা সরবরাহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, শিশুখাদ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে ফেরত আসা নষ্ট খাবার পুনরায় অন্য গ্রাহকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সুইগি ইনস্টামার্টের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
আরও পড়ুন: ভিয়েতনামে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! নৌকা ডুবে মৃত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটক, দূতাবাস জারি করল হেল্পলাইন নম্বর
তদন্তে শুধু খাদ্যের মান নিয়েই নয়, প্রশাসনিক এবং নথিগত অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। এফএসএসএআই জানিয়েছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে ভুল বা অবৈধ এফএসএসএআই লাইসেন্স নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কিছু বিক্রেতার নাম সরকারি নথির সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়াও গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও একাধিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার প্রকৃত সমাধান না করে শুধুমাত্র টাকা ফেরতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন নষ্ট বা মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার গ্রাহকের কাছে পৌঁছাল, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
FSSAI পাঠানো নোটিসে সুইগি ইনস্টামার্টের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিক্রেতা নির্বাচন কীভাবে করা হয়, খাদ্যের গুণমান পরীক্ষা, স্টক ব্যবস্থাপনা, খাদ্য সংরক্ষণের নিয়ম, অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি এবং সংস্থার নিজস্ব খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—এই সমস্ত বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য কী ধরনের সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাও জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব সন্তোষজনক না হলে খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে স্পষ্ট করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আরও পড়ুন: ৬ লক্ষ টাকার পুঁজি নিয়ে শুরু ব্যবসা! আজ ২.২ কোটির কোম্পানি গড়লেন ঋতু, কীভাবে পেলেন সাফল্য?
ভারতে অনলাইন গ্রোসারি ও ফুড ডেলিভারি পরিষেবার জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ধরনের প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভর করে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন। তাই এই পরিষেবাগুলির ক্ষেত্রে খাদ্যের গুণমান, সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার পাশাপাশি কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা থাকাও সমান জরুরি। FSSAI-এর এই পদক্ষেপ সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট করেছে যে, গ্রাহকদের স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। এখন সুইগি ইনস্টামার্ট কী জবাব দেয় এবং পরবর্তী সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

















