বাংলাহান্ট ডেস্ক: যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়! ইরান ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাব যে জ্বালানিতে (Fuel Price Hike) পড়তে চলেছিল তা আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল। এবার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করল দেশের জ্বালানি বাজারে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে প্রথমবারের মতো বেড়েছে প্রিমিয়াম জ্বালানির দাম। সরকারের তরফ থেকে আগে আশ্বাস দিয়েছিল যে পেট্রল-ডিজেলের দামে কোনও বৃদ্ধি হবে না, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল পাওয়ার পেট্রলের ক্ষেত্রে এক ধাক্কায় লিটার পিছু ২ টাকা ৩০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ভারতে বাড়ল প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম (Fuel Price Hike):
তবে সূত্রের খবর, এই মূল্যবৃদ্ধি শুধুমাত্র প্রিমিয়াম বা পাওয়ার পেট্রলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সাধারণ পেট্রল ও ডিজেলের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন হয়নি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের উপর সরাসরি প্রভাব না পড়লেও, যাঁরা উন্নত মানের জ্বালানি ব্যবহার করেন, তাঁদের খরচ কিছুটা বেড়ে গেল। এই পাওয়ার পেট্রল মূলত গাড়ির ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং বেশি মাইলেজ পেতে ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন: কাজ করতেন আটার মিলে! কঠোর পরিশ্রমে পাশ করেন NEET, চিকিৎসক হতে চলেছেন জয়বর্ধন
ভারত সরকারের তরফ থেকে বারংবার জানানো হয়েছিল, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও কোনও ঘাটতি তৈরি হবে না। তবে এবার প্রিমিয়াম জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঘটনায় সেই আশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। যদিও সরকারি স্তরে এখনও এই মূল্যবৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট করে জানানো হয়নি, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে দ্রুত বেড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে পরিবহণ ও লজিস্টিক খরচও। এই কারণেই তেল সংস্থাগুলি প্রিমিয়াম পেট্রলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এমনটাও হয়! ATM থেকে ১০ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পেলেন গ্রাহক
বলা বাহুল্য, ভারত নিজের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশই আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য পরিবর্তনও দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে থাকে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির (Fuel Price Hike) ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা যেমন থাকে, তেমনই টাকার উপরও চাপ তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে, ভবিষ্যতে জ্বালানির দামে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলেই আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।












