বাংলা হান্ট ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে (Gaziabad) তিন কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই খুলছে জট। কারণ, বুধবার ভোররাতে ন’তলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তিন বোন—পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও বিশিকা (১৬)-র।যদিও প্রথমে ঘটনাটিকে ‘ত্রিমুখী আত্মহত্যা’ বলা হলেও, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে সামনে এসেছে। তবে এই ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই নয়া ইঙ্গিত ধরা দিচ্ছে। সূত্রের খবর, এক বোন ঝাঁপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল, বাকি দু’জন তাকে টানতে গিয়ে একসঙ্গে পড়ে যায়। তার পরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তিন বোনের।
তিন কামরার ফ্ল্যাটে এক ঘরে ৯ জন,গাজিয়াবাদ কাণ্ডে রহস্য ঘনীভূত (Gaziabad)
গাজিয়াবাদের (Gaziabad) ঘটনায় প্রথমে গেম আসক্তি জনিত কারণে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছিল। তবে পুলিশি অনুসন্ধানে তা ক্রমশ জটিল্যরূপ নিচ্ছে। জানা যাচ্ছে পারিবারিক সংকট, বহুবিবাহ, আর্থিক বিপর্যয় ও পুরনো রহস্যের এক অন্ধকার ছবি।

আরও পড়ুন: এক ভুলেই সব শেষ! মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল ১৯ জন পরীক্ষার্থীর
সূত্রের খবর, এই ঘটনায় ঐদিন নাবালিকার বাবার চেতন কুমার তাদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া তারা চরম মানসিক চাপে পড়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে তদন্তে উঠে এসেছে এই তিন বোনের পারিবারিক পরিস্থিতি ছিল এক রকমের অস্বাভাবিক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাজিয়াবাদদের একটি তিন কামরার ফ্লাটে চেতন কুমার তার তিন স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে থাকতেন।
যদিও এই ঘটনায় প্রথমে চেতন কুমার পুলিশের কাছে দাবি করেন তার প্রথম স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম হওয়ায় তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে বাধ্য হন। কিন্তু এই বক্তব্যই প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তকারীরা। কারণ সুজাতা অর্থাৎ প্রথম স্ত্রীর কন্যা সন্তানের বয়স মৃত্যু কালের ১৬। কারণ পুলিশের জেরার সময় বারবার বক্তব্য বদলিয়েছে চেতন কুমার এবং শুরুতে টিনার সঙ্গে তার বিবাহের কথা গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে শালিমার গার্ডেনের এপিসো অতুল কুমার সিং জানান, ওই তিন নাবালিকার ময়নাতদন্তে মাথায় আঘাত জনিত মৃত্যুর প্রমান মিলেছে। কিন্তু কোন যৌন হেনস্থার চিহ্ন নেই। মেয়েদের মোবাইল ফোন বিক্রি করার ঘটনা ঘটে ১৫ দিন আগে। তবে সেগুলো উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যাতে মৃত্যুর আগে কি ঘটেছিল তার স্পষ্ট হয়। তবে পুলিশ এই বিষয়ে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়ার ৩০ পাতার একটি ডায়েরিতে মেয়েরা কোরিয়ান ড্রামা ও কেপপ সংগীত দেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার হতাশার কথা লিখেছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীদের মতে এটি পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা হতে পারেনা (Gaziabad)।












