বাংলাহান্ট ডেস্ক: সৈন্যশক্তির নিরিখে কোন দেশ কতটা শক্তিশালী, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রতি বছরের মতো এ বারও প্রকাশিত হল গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স (Global Firepower Index 2026)। ২০২৬ সালের তালিকায় নিজের জায়গা ধরে রেখেছে ভারত, যদিও ফৌজি ক্ষমতার বিচারে এখনও এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে চিন। অন্য দিকে উল্লেখযোগ্য অবনমন হয়েছে পাকিস্তানের। মোট ১৪৫টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি এই তালিকায় সামরিক বাজেট, আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার, জনবল, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতা-সহ প্রায় ৬০টি সূচক বিচার করা হয়েছে।
বিশ্বের শক্তিশালী সৈন্যদের তালিকা প্রকাশ গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স (Global Firepower Index 2026)-এর:
২০০৫ সাল থেকে প্রকাশিত এই সূচকে এ বারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাওয়ার ইনডেক্সে তাদের প্রাপ্ত নম্বর ০.০৭৪১, যা গত বছরের তুলনায় আরও কম। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের নিয়ম অনুযায়ী, যে দেশের স্কোর যত শূন্যের কাছাকাছি, তার সেনাশক্তি তত বেশি। ইরান ও ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সফল সামরিক অভিযানের প্রভাবেই আমেরিকার অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন:Jio-Airtel ভুলে যান! BSNL আনল সবচেয়ে সস্তা প্ল্যান, ডেটা-কলিং দুটোই আনলিমিটেড
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া। তাদের পাওয়ার ইনডেক্স ০.০৭৯১। ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললেও রুশ সেনার কৌশলগত অবস্থান এবং নতুন প্রজন্মের অস্ত্র পরীক্ষার সাফল্য মস্কোকে শীর্ষে থাকতে সাহায্য করেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে চিন, যাদের স্কোর ০.০৯১৯। যদিও পিএলএ-র অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং শীর্ষস্তরের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ড্রাগনের সামরিক স্কোরে প্রভাব ফেলেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ভারত এ বছরও চতুর্থ স্থান ধরে রেখেছে। তবে পাওয়ার ইনডেক্স বেড়ে হয়েছে ০.১৩৪৬, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ব্যয় বাড়লেও গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে তুলনামূলক কম বিনিয়োগ এবং আমেরিকা-রাশিয়া-চিনের তুলনায় বাজেটের ফারাকই এর প্রধান কারণ। যদিও কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা ভারতের ভবিষ্যৎ অবস্থান আরও মজবুত করতে পারে।

আরও পড়ুন: Gemini-ChatGPT-কে কড়া টক্কর! গোটা বিশ্বকে চমকে দিল ভারতের ‘Sarvam AI’
অন্য দিকে পাকিস্তানের অবস্থার অবনতি হয়েছে স্পষ্ট ভাবে। গত বছর দ্বাদশ স্থান থেকে এ বার তারা নেমে গিয়েছে চতুর্দশ স্থানে। পাওয়ার ইনডেক্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.২৬২৬। ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা এবং সীমান্তে একাধিক ব্যর্থতার প্রভাবেই এই অবনমন বলে মনে করা হচ্ছে। তালিকায় পঞ্চম স্থানে দক্ষিণ কোরিয়া, ষষ্ঠ স্থানে ফ্রান্স এবং সপ্তম স্থানে জাপান রয়েছে। ইজ়রায়েল, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো পরমাণু শক্তিধর দেশগুলি প্রথম দশে জায়গা না পাওয়ায় এই সূচক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।












