বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্বদরবারে প্রযুক্তিতে ফের নিজের সক্ষমতার ছাপ রাখল ভারত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) দুনিয়ায় গুগলের ‘জেমিনি’ ও ওপেনএআই-এর ‘চ্যাটজিপিটি’-র মতো আন্তর্জাতিক মডেলকে টেক্কা দিয়ে নজর কাড়ল ভারতের নিজস্ব এআই উদ্যোগ। বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ ‘সর্বম এআই’-এর সাফল্যে শুধু দেশেই নয়, আলোচনার ঝড় উঠেছে সিলিকন ভ্যালিতেও। দীর্ঘদিন ধরে ‘বিগ টেক’-এর একচেটিয়া আধিপত্যের বাইরে দাঁড়িয়ে ভারতের এই দেশীয় এআই মডেল দেখিয়ে দিল, যথাযথ পরিকাঠামো ও প্রতিভা থাকলে এআই ক্ষেত্রেও ভারত বিশ্বনেতৃত্বের দাবিদার হতে পারে।
গোটা বিশ্বকে চমকে দিল ভারতের ‘Sarvam AI’ (Artificial Intelligence):
এতদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানেই আমেরিকা বা চিনের প্রযুক্তি সংস্থার নামই ঘুরে ফিরত। সেই ধারণায় আঘাত হেনেছে ‘সর্বম এআই’। সংস্থার তৈরি নতুন ওসিআর টুল ‘সর্বম ভিশন’ এবং উন্নত ভয়েস মডেল ‘বুলবুল ভি৩’ পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বের প্রথম সারির একাধিক এআই মডেলকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। ভারতীয় বাস্তবতা ও ভাষাভিত্তিক প্রয়োজনকে মাথায় রেখেই এই মডেলগুলির নকশা করা হয়েছে, যা তাদের কার্যকারিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আরও পড়ুন: ঘরোয়া রান্নায় নতুন টুইস্ট! রেস্তোরাঁর মতো কাবাব বানাতে রইল স্পেশাল রেসিপি রইল
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় ভাষার নথিপত্র পড়া ও জটিল সরকারি বা আইনি ডকুমেন্ট স্ক্যান করার ক্ষেত্রে ‘সর্বম ভিশন’-এর দক্ষতা অনন্য। বিভিন্ন বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ওসিআর টুলের নির্ভুলতার হার ৮৪.৩ শতাংশ, যা বহু আন্তর্জাতিক মডেলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। শুধু সাধারণ লেখা নয়, জটিল অঙ্ক, সারণি কিংবা গ্রাফ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও ‘সর্বম ভিশন’ নির্ভরযোগ্য ফল দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শুধু লেখা বোঝাতেই নয়, কণ্ঠস্বর প্রযুক্তিতেও দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে ‘সর্বম এআই’। তাদের টেক্সট-টু-স্পিচ মডেল ‘বুলবুল ভি৩’ বর্তমানে ১১টি ভারতীয় ভাষায় স্বাভাবিক ও সাবলীল ভাবে কথা বলতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইলেভেনল্যাবস’-এর মতো মডেলের তুলনায় এটি অনেক কম খরচে, অথচ ভারতীয় উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি বজায় রেখে অডিয়ো তৈরি করতে পারে। ফলে শিক্ষা, গ্রাহক পরিষেবা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:১১ ফেব্রুয়ারি বাবরি মসজিদ নির্মাণ শুরু, পরদিনই ‘বাবরি যাত্রা’ হুমায়ুনের, কী বার্তা দিতে চাইছেন?
একসময় ভারতের এআই অগ্রগতি নিয়ে যাঁরা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, তাঁরাও এখন এই সাফল্যে বিস্মিত। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ডি ডি দাসের কথায়, “আমি ভুল ছিলাম। সর্বম যা করে দেখিয়েছে, তা সত্যিই অভাবনীয়।” ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে, ভারতের ভাষা ও প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই দেশীয় এআই মডেল ভবিষ্যতে প্রযুক্তি দুনিয়ায় ভারতের অবস্থান আরও শক্ত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












